স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
সিলেট নগরীর বালুচর সোনার বাংলা এলাকার আবির খসরু। তিনি ছিলেন বিএনপির সমর্থক। ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘোষনা দিয়ে বিএনপির সংসার ত্যাগী হন।
নতুন সংসারের আশায় হাত ধরেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সয়েফ আহমদের। কিছুদিন যেতে না যেতেই সয়েফ আহমদের সাথে ভাটা পড়ে সম্পর্কের। নতুন সম্পর্ক মানে নতুনভাবে যোগদেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল গ্রুপে।
স্বেচ্ছাসেবকদলের একাধিক সুত্রে জানা যায়, আবির খসরু নাজমুল গ্রুপে যোগ দিয়ে শুরুতেই বেঈমানি করেন বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের সাথে।
তাদের ওপর চালান বিভিন্ন নির্যাতন। ফ্রন্টলাইনে না থেকে পিছন থেকে নাজমুলকে দিয়ে মিথ্যা মামলা হামলা চালাতে থাকেন ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীদের ওপর।
রাতারাতি তিনি হয়ে উঠেন বালুচর সোনারবাংলা এলাকার অঘোষিত সম্রাট। এলাকায় বিভিন্ন ভাবে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারনে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গড়ে তোলেন পেটুয়া বাহিনী। কেউ তার কাথার অবাধ্য হলে শুরু হয় নির্যাতন।
থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ ২ বছর করেছেন রাম রাজত্ব। শিলং তীর থেকে শুরু করে এমন কোন কাজ নেই যে তিনি জড়িত ছিলেন না। আর এসব কিছু তিনি করতেন পলাতক ডেভিল নাজমুলের ছত্রছায়ায়।

ঘোষনা দিয়ে বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাড়ান খসরু।
ছাত্রলীগের সাথে খসরুর মিছিল দেখতে এখানে ক্লিক করন
জানা যায়, খসরুর পিতার নাম মাছুম মিয়া। বালুচর সোনার বাংলা মন্নান ডাঃ এর কলোনিতে বসবাস হলেও তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার জগদল গ্রামে।
সুত্র জানায়, পল্টিবাজ খসরু ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট নাজমুল দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে সাথে সাথে খোলস পাল্টাতে থাকেন। নিজেকে যুবদল নেতা পরিচয় দিতে শুরু করেন। পুরাতন কিছু ছবি পোষ্ট দিয়ে নিজেকে যুবদল নেতা জাহির করা আরম্ভ করেন।
চতুর খসরু ৫ আগষ্টের পর বিএনপির নেতাদের পাশে দাড়িয়ে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করে নিজেকে আওয়ামিলীগের ধোসর থেকে বাঁচাতে তদবির শুরু করেন।
ইতিমধ্যে তিনি বালুচর এলাকায় নিজেকে যুবদল নেতা বলে দাবী করলেও সিলেট মহানগর ও জেলা যুবদল সুত্রে তার কোন অস্হিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি।
তবে গুটি কয়েক আওয়ামিলীগের ধোসরদের মাধ্যমে তিনি যুবদলে স্হান করে নেয়ার ফন্দি ফিকির করছেন। খসরু যুবদল কর্মী পরুচয় দিলেও তার মিথ্যা মামলার সেই ধারাবাহিকতা আজও বজায় রয়েছে। তবে এবার তার মাকে দিয়ে করিয়েছেন মামলা।
সম্প্রতি খসরু শাহপরান থানা স্বেচ্চাসেবকদলের সদস্য কুদ্দুছের উপর হামলা করতে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা কর্মীদের দৌড়ানি খেয়ে কোন রখম নিজেকে বাচাতে সক্ষম হন। ঘটনার পর পরই খসরুর পক্ষের কিছু লোক তাকে যুবদল নেতা বলে প্রচার করলেও বাস্তবে যুবদলে তার কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পরে যুবদল নামদারি কিছু আওয়ামিলীগ ধোসরদের শলাপরামর্শে গত ৩ মে সিলেট শাহপারান থানায় সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সাইদুল এনাম চৌধুরী লাহিন (৪০), শাহপরান থনা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য কুদ্দুছ মিয়া (৩৫), লামবা শরীফ (৩৫), অজয় (৩০), বড় শাহীন (৩০), ছোট শাহিন (২৭), সাগর (২৫), সজিব আহমদ, আদনান (২০), আলী আজগর (২১), মাহিন, সাদেক মিয়া (৩৬), মুসা মিয়া (৩৯), নাঈম আহমদ (২০), রনি আহমদ(৩০), ইমরান আহমদ (৩৫), দেলোয়ার আহমদ(৩৩)অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন খসরুর মা সুরুজ বেগম মামলা নং-০১।
এদিকে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সাইদুল এনাম চৌধুরী লাহিন ও শাহপরান থনা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য কুদ্দুছ মিয়াকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা ও থানা নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (৭ মে) সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল ও সদস্য সচিব শাকিল মুর্শেদ এক প্রতিবাদ বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাইদুল এনাম চৌধুরী লাহিন দলের দুর্দিনে রাজপথের অন্যতম সক্রিয় সংগঠক হিসাবে কাজ করেছে। বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ও তাকে হামলা মামলা সহ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী আমলে নির্যাতিত লাহিনের নামে আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশে ফ্যাসিবাদের দোসর কতৃক মিথ্যা মামলা দায়ের সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। অবিলম্বে সাইদুল এনাম চৌধুরী লাহিনের উপর থেকে মিথ্যা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি অন্যতায় সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে শাহপরাণ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক নুরুল হক মাছুম, সদস্য সচিব সোলেমান খাঁ ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুস সালাম আজাদ শাহপরাণ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য কুদ্দুস মিয়ার নামে আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্যদের দেওয়া মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বুধবার (৭ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, কুদ্দুস মিয়া দলের দুর্দিনে রাজপথের অন্যতম সৈনিক। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে হামলা মামলা সহ বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদী আমলে নির্যাতিত কুদ্দুসের নামে আজ ফ্যাসিবাদ মুক্ত দেশে ফ্যাসিবাদের দোসর কতৃক মিথ্যা মামলা দায়ের সুগভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কুদ্দুস মিয়ার উপর থেকে মিথ্যা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান অন্যথায় স্বেচ্ছাসেবক দল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
এদিকে খসরু যুবদল নেতা কিনা এ বিষয়ে জানতে যুবদলের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে জানা যায়, আবির খসরু নামে কাউকে তারা ছিনেন না।
তারা বলেন, গত ৫ আগষ্টের পুর্বে এরখম অনেক কর্মী দেখেছি বিএনপির সাথে বেঈমানি করে আওয়ামিলীগের পা চাটা রাজনীতির নামে চুরি ছিনতাইয়ের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
৫ আগষ্টের পর নিজেদের পিট বাঁচাতে ফের বিএনপির ছায়াতলে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে। এদের চিন্হিত করা হচ্ছে। অচিরেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নেয়া হবে।