আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি যেমন প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়েছিল সেই একই ধারায় আমিও প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখছি।
দক্ষিন সুরমা বিএনপির শক্তিশালী ঘাটি হিসেবে বিবেচিত। সেই দক্ষিন সুরমা বিএনপিকে পঙ্গু করে দেয়ার পায়তারা করছে একটি মহল।
গত ৫ আগষ্টের পুর্বে যাদেরকে খোজে পাওয়া যায়নি তারাই এখন উড়ে এসে জুড়ে বসে দক্ষিন সুরমা বিএনপির নেতা কর্মীদের উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছে।
অথচ এদেরকে আওয়ামীলীগের শাসনামলে খুজে পাওয়া যায়নি, নিজেদের আখের গুছিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন। দলের সেই দুঃসময়ে যেকজন নেতা কর্মী ছিল তারাই আজ প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হচ্ছে তার মধ্যে আমি নিজে একজন।
আমাকে কোন কারন দর্শানো নোটিশ ছাড়াই দল থেকে বহিস্কার করাটা দলের সংবিধান পরিপন্হী বলে আমি মনে করি।
প্রথম সকালের সাথে একান্ত আলাপকালে এসব কথা বলেন, সদ্য বহিস্কার হওয়া দক্ষিন সুরমা বিএনপির সাধারন সম্পাদক কোহিনুর আহমদ।
তিনি বলেন, আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। এতেই বুঝা যায় আমাকে বহিস্কার করতে না পারলে একটি পক্ষের অসুবিদা হত।
তিনি বলেন, আমি তিলে তিলে দক্ষিন সুরমা বিএনপিকে একত্রিত করেছি। দলীয় কোন্দল ভেঙ্গে সবাইকে এক জায়গায় আনার কাজ করেছি। আর সে জন্যই একটি পক্ষের বিষফোড়া হয়ে গেছি।
কোহিনুর জানান, যে ঘটনায় তাকে বহিস্কার করা হয়েছে সে ঘটনার সময় তিনি উপস্হিত ছিলেন না। তিনি চ্যালেঞ্জ চুড়ে দিয়ে বলেন, আমি ঘটনার সাথে জড়িত এমন কোন প্রমান যদি কেউ দেখাতে পারেন তাহলে আমি সারাজীবনের জন্য দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিব।
বহিস্কৃত নেতা কোহিনুর বিএনপির কোন নেতার নাম প্রকাশ না করে জানান, ৩ আসনের নির্বাচনকে ঘিরেই মুলত এ বহিস্কার নাটক। দক্ষিন সুরমার বিএনপিকে কিভাবে কষ্ট করে সাজিয়েছি তা হাইব্রিড নেতা কি করে বুঝবেন।
সিলেট ৩ আসনের লোভ সমলাতে না পেরে বহিস্কারের পথ বেচে নিয়ে নিজেকে মহান ভাবা সেই মানুষকে দক্ষিন সুরমাবাসী জবাব দিবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৫ বছর নিজের বাড়িঘরে থাকতে পারিনি, মিথ্যা মামলাসহ নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছে দক্ষিন সুরমা বিএনপির নেতা কর্মীরা।
৫/৬ জনকে সাথে নিয়ে আওয়ামীলীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মিছিল মিটিং করেছি, রাতের বেলা পরিবার পরিজনকে ফেলে আত্মগোপনে থেকেছি।
কারাগারে থাকাকালিন বাবার মৃত্যুতে জানাযায় অংশ নিতে দেয়া হয়নি, তখন এসব হাইব্রিড নেতারা কোথায় ছিলেন। এখন হঠাৎ উড়ে এসে নিজেকে বিশাল বড় নেতা দাবী করছেন।
কোহিনুর বলেন, আওয়ামীলীগের ধোসরদের পুনর্বাসনের জন্য নিজেকে দক্ষিন সুরমার নেতা জাহির করতে যাবেন না। দক্ষিন সুরমা বিএনপি গত১৫ বছর ফ্যাসিবাদিদের মোকাবেলা করেছে এখনও করতে প্রস্তুত আছে।
তিনি বিএনপির প্রবাসী একজন নেতার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উনার জন্য আমি ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছিলাম। তাই তিনি সিষ্টেমে আমাকে সরিয়ে দিলেন।
তিনি বলেন, আমাকে সরানোর মুল কারন হল আগামী সংসদ নির্বাচন। যাতে করে তিনি নির্বাচন করে আওয়ামী ধোসরদের পুনর্বাসন করতে পারেন সে জন্য এ পদক্ষেপ।
বহিস্কৃত নেতা কোহিনুর বলেন, আমি আশা করছি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি আমার ব্যাপারে সঠিক তদন্ত করলে আসল সত্য বের হবে। আমি চাই আরো তদন্ত করা হউক। তদন্তে আমি দোষি হলে আজীবনের জন্য নিজেকে দল থেকে সরিয়ে নিব।
তিনি দলের হাইকমান্ডের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আপনারা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করেন, দেখেন আমি ঘটনার সাথে জড়িত কিনা।
কারো মিথ্যা কথায় বা পরামর্শে একজন ত্যাগী নেতাকে বহিস্কার করা মানে দলীয় স্বার্থে রাজনীতি করার জন্য তার ত্যাগ স্বীকারকে অসম্মান করা।
এদিকে কোহিনুরকে বহিস্কারে দক্ষিন সুরমা বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক জুড়ে এর প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।