রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে ছিনতাইকারী ও একা‌ধিক মামলার আসামী গ্রে ফ তা র নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মোগলাবাজার থানা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন সিলেটে লেগুনা পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার, দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার এক নতুন দিগন্ত হাউজ অব লর্ডসে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান, ইতিহাস সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় জোর দাবি এক্সিম ব্যাংকের প্রতারণার শিকার জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কোম্পানীগঞ্জে জীবন মেম্বারের বিরুদ্ধে এবার জলমহাল লুটের অভিযোগ ইতালীতে কৃষি ভিসায় পাঠানোর নামে টাকা আত্নসাতের অভিযোগ গোয়াইনঘাটে পারিবারিক কলহের জেরে তরুণীর আ/ত্ম/হ/ত্যা

ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার, দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার এক নতুন দিগন্ত

ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন, এমবিই
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক দৃশ্যমান গতিপথে এগিয়ে চলেছে। অর্থনীতি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্জন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। তবে এই অগ্রযাত্রার মাঝেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—আমরা একটি ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাস করি। তাই প্রশ্নটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো কি বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুত?

আধুনিক প্রকৌশল বিশ্লেষণ বলছে, সঠিকভাবে পরিকল্পিত ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকম্পে তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। কারণ এগুলো মাটির স্বাভাবিক গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নড়ে, ফলে উঁচু ভবনের মতো ভেঙে পড়ার ঝুঁকি কম থাকে। উন্নত বিশ্বে নির্মিত আধুনিক বাঙ্কারগুলোতে শক-অ্যাবজরবিং ডিজাইন, শক্তিশালী রিইনফোর্সড কাঠামো, নিরাপদ বায়ুচলাচল, বিকল্প বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে। এগুলো কেবল আশ্রয়স্থল নয়, বরং সংকটকালে কার্যকর কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সঙ্গে নিরাপদ টানেল সংযুক্ত থাকার নজির রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানান্তর, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। ইতিহাস থেকেও দেখা যায়, রাজা-সম্রাটদের সময়েও গোপন সুরঙ্গ ব্যবস্থার প্রচলন ছিল—যা আধুনিক যুগে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। বঙ্গভবন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাগুলো শুধু স্থাপনা নয়—এগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু। একটি বড় দুর্যোগে যদি একসঙ্গে বহু নীতিনির্ধারক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তা কেবল মানবিক বিপর্যয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

এক্ষেত্রে একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ হতে পারে—কৌশলগত স্থাপনাগুলোর সঙ্গে আধুনিক ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণ। এসব অবকাঠামো এমনভাবে ডিজাইন করা যেতে পারে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পরিচালনা এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। বিকল্প প্রবেশ ও নির্গমন পথ, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জীবনরক্ষাকারী সুবিধা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত।

তবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা—বিশেষ করে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি—অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। এজন্য উন্নত জলরোধী প্রযুক্তি, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাম্পিং সিস্টেম এবং বন্যা-সহনশীল নকশা অপরিহার্য। পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এটি প্রকৌশল দক্ষতার একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের শীর্ষ প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা ও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে এটি কেবল একটি ধারণা নয়, বরং কার্যকর বাস্তবতা হয়ে উঠতে পারে।

সমাজের কিছু অংশ হয়তো এই ধারণাকে অপ্রয়োজনীয় বা অতিরঞ্জিত মনে করতে পারে। তবে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব যে প্রজন্মের হাতে, তারা একটি উন্নত ও নিরাপদ বাংলাদেশ চায়। দূরদর্শী নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যতের প্রয়োজন আজই উপলব্ধি করা এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া।

এই উদ্যোগ কোনো পালানোর পথ নয়; বরং দায়িত্বশীলভাবে টিকে থাকার প্রস্তুতি। আধুনিক রাষ্ট্রগুলো সময়ের প্রয়োজনে এ ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলেছে—যা প্রমাণ করে এটি একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর ধারণা। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। এখন সময় এসেছে নিরাপত্তা অবকাঠামোতেও একই দূরদর্শিতা প্রদর্শনের। এটি কেবল বর্তমানের জন্য নয়—ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র গঠনের বিনিয়োগ।

উন্নয়নের পাশাপাশি সুরক্ষা—এই ভারসাম্যই হতে পারে টেকসই রাষ্ট্র নির্মাণের মূল ভিত্তি। এখন প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি সেই দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত?

লেখক:- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠক, লেখক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষক, চেয়ারম্যান, নিউ হোপ গ্লোবাল, বার্মিংহাম, যুক্তরাজ্য।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!