রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে ছিনতাইকারী ও একা‌ধিক মামলার আসামী গ্রে ফ তা র নানিয়ারচর সেনা জোন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ মোগলাবাজার থানা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন সিলেটে লেগুনা পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার, দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার এক নতুন দিগন্ত হাউজ অব লর্ডসে মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা প্রদান, ইতিহাস সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষায় জোর দাবি এক্সিম ব্যাংকের প্রতারণার শিকার জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া কোম্পানীগঞ্জে জীবন মেম্বারের বিরুদ্ধে এবার জলমহাল লুটের অভিযোগ ইতালীতে কৃষি ভিসায় পাঠানোর নামে টাকা আত্নসাতের অভিযোগ গোয়াইনঘাটে পারিবারিক কলহের জেরে তরুণীর আ/ত্ম/হ/ত্যা

আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার কারনে গণপিটুনির শিকার পুলিশ কর্মকর্তা

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথায় এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মো. ইমরান হাসান (৪০) নামে পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। গভীর রাতে আসামির স্ত্রীর ঘর থেকে হাতেনাতে আটকের পর উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত এএসআই ইমরান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। এ ঘটনার ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সেখানে ওই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি এটি পরকীয়ার ঘটনা। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এএসআই ইমরানের গায়ে পুলিশের পোশাক নেই। তিনি প্যান্ট ও টি-শার্ট পরা। তার মাথা কাপড় দিয়ে বাঁধা। মুখে রক্ত মাখা।

গভীর রাতে নারীর ঘরে একা ঢুকে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে কোনো এক ব্যক্তি তার গায়ে আঘাত করছেন। তখন ইমরানকে বলতে শোনা যায়, তুই আমার ভাই না, মারিস কেন? পরে ইমরানের পকেট থেকে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর প্যাকেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ভিডিও ধারণকারী ওই ব্যক্তি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বলিভদ্রদিয়া এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মামলার সুবাদে ইমরান হাসান আসামি মেহেদী হাসানের বাড়িতে ঘনঘন যাওয়া-আসা করতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে আসামি মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে একা দেখা করতে গেলে এলাকার লোকজনের হাতে ধরা পড়ে মারধরের শিকার হন। খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরান হাসানকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। 

এ বিষয়ে এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে সাদা পোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখ্যা দিতে তিনি রাজি হননি। আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি।

এ সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায় আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এর মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। 

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।  গভীর রাতে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, রাতের আঁধারে একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে কেন গিয়েছিলেন- বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!