শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ন

ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী চাচা ভাতিজা এখন বিএনপির বড় নেতা, সাধারণ নেতাকর্মীরা কোনঠাসা

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের ১৫ বছর নিরাপদে সুবিধা নিয়ে এখন বিএনপির বড় নেতা সেজে জামালগঞ্জে দাপট দেখাচ্ছেন বিতর্কিত তৌফিক চৌধুরী ও জুলফিকার চৌধুরী রানা। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে জলমহাল নিয়ন্ত্রণ, নানা প্রকল্প বাগিয়ে নেওয়া, মুজিব পল্লীর কাজ তদারকি করাসহ প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও মহিলা এমপি শামীমা শাহরিয়ার এবং আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম শামীমের সঙ্গে ঘনিষ্টতার সুযোগে দেখিয়েছেন দাপট। তাদের নির্বাচনী প্রচারনায় অংশগ্রহণসহ বিস্তর সুবিধা নিয়ে ১৫ বছর ছিলেন নিরাপদ।

এখন ৫ আগস্টের পর কথায় কথায় বিএনপির সর্বেবর্সা বনে বিএনপির তৃণমূলের ত্যাগীদেরও একহাত নিচ্ছেন দুই চাচা ভাতিজা। তাদের মানসিক অত্যাচার ও উদ্ধত্বপণায় ক্ষুব্দ স্থানীয় সুধীজনও। তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ তিল পরিমান তাদের মধ্যে নাই। ত্যাগ সততা সমাজসেবা মানবতা শব্দগুলো তাদের অভিধানে নাই। বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তোষামুদি করে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।

এমনকি বিএনপিবিহীন নির্বাচনে তারা দুই চাচা ভাতিজা এজেন্টের দায়িত্বও পালন করেছেন। এখন তাদের টাউটামি, চামচামি, প্রতারণা, লোক ঠকানো, চাঁন্দাবাজি আর ধান্দামি আরো বেড়েছে। জানা গেছে ২০০১ সালে নজির হুসেনের সময় নামে বেনামে বিভিন্ন প্রকল্প দু’জনেই সমানভাবে ভাগ করে খেয়েছেন। নিজ গ্রামের বাঁশের বেড়া দিতে সেই সময়েই ২ লাখ টাকা গ্রামের নামে আত্মসাৎ করেছেন। দুই লাখ টাকার দুইটি বাঁশও গ্রামবাসী পায়নি।

জিয়া পরিষদ ও গ্রামের গোপাটের কথা বলে ২০০৪ সালে আরো দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গ্রামের গোপাটে দুই কোদাল মাটিও কাটেন নাই। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছর দুই চাচা ভাতিজা পালাক্রমে আওয়ামী লীগের এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতন , শামীমা শাহরিয়ার ও রেজাউল করীম শামিমের কাছ থেকে ব্যাপক সুবিধা নিয়েছেন।

বিনিময়ে নিজ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও রেজাউল করীম শামীমের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনের ক্যাম্পেইন করেছেন যার ছবি এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। এমনকি তারা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে এজেন্ট হয়েছেন। এমনকি বিএনপি বিগত উপজেলা নির্বাচন বর্জন করলেও দুই চাচা ভাতিজা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করেন ও এজেন্ট হিসাবে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন।

জানা গেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট দেয়ার কারনে ফেনারর্বাঁক কেন্দ্র থেকে তোফিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিজ গ্রামের মহিলা এমপির সুপারিশে থানা থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। এভাবে আওয়ামী লীগ আমলে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা কওে নিজেরা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বনে যান। এর আগেও ২০১৩ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বয়কট করলেও দুই চাচা ভাতিজা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণা করেন। নিজ বাড়িতে নৌকার সমাবেশের আয়োজন করেন।

এবং নিজ বাড়িতে রতন এমপির রাত্রীযাপন ও রাতের খাবারের আয়োজন করেন। যার ছবি অনেকের কাছেই আছে। বিনিময়ে রতন এমপি আওয়ামী লীগের লোকজনকে বঞ্চিত করে দুই দুইবার তৌফিককে সেলিমগঞ্জ হাইস্কুলের সভাপতি নিয়োগ করেন। সবাই জানে বিগত ১৫ বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপির সুপারিশ ছাড়া কেউ নিয়োগ পেত না। এমনকি ফেনারবাঁক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি খোকন চৌধুরীর সাথে মিলে নলচুন্নী বিলের মালিক বনে যান।

খোকন চৌধুরী তৌফিকরে ১০ লক্ষ টাকা দেন অংশিদার হিসাবে। এদিকে ভাতিজা জুলফিকার চৌধুরী রানা কম যাবেন কেন? তিনিও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে রতন এমপির পক্ষে ২০১৩ সালে অংশ নেন। এবং রতন এমপির সুপারিশে সিএনআর এস নামক এনজিওতে বছরের পর বছর ডিউটি না করেও বেতন উত্তোলন করেন। একাজে সবচেয়ে বেশী সাহায্য করেন আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করীম শামিম।

এমপি রতন এবং শামিম সাহেবের আনুগত্যের ও নির্বাচনে প্রচারনার পুরষ্কার হিসাবে লম্বাবিল, চাটনি বিল, পাকনা বিল, চিচরা গনি বিলে নামে বেনামে ভাগ পান ভাতিজা রানা। এমনকি এমপির ব্যাক্তিগত ঐচ্ছিক তহবিল থেকেও রানা তার ছেলের জন্য অনুদান পেয়েছেন এমন তথ্যও আছে। জানা গেছে সিএন আর এস এর বিভিন্ন অনুদান ও ভাতা চুরি করলেই এমপি রতন ও রেজাউল করীম শামিমের সুপারিশে বার বার ভাতিজা রানার চাকরি বহাল থাকে এমনকি কর্মস্থলও ঠিক থাকে জামালগঞ্জ অথবা তাহিরপুরে।

এখন ফ্যাসিস্ট ফেনা তুলে জুলফিকার রানা তিনটি চেয়ারম্যান নির্বাচন করেছেন আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছরে। যখন বিএনপির অন্য নেতারা এলাকা ছাড়া ছিলেন বা নির্বাচন করতে সাহস পান নাই। তিনটি নির্বাচনেই এমপি রতন ও শামীম নগদ টাকা পোস্টার দিয়ে সাহায্য করেছেন রানাকে। চাচা ভাতিজা সবচেয়ে বেশী সুবিধা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ পাঁচ বছরে-এমন কথা এখন প্রকাশ্যে বলছেন তৃণমূল বিএনপির বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও রেজাউল করীম শামীমের চামচামি ভুলে নির্লজ্জভাবে নিজ গ্রামের মহিলা এমপির চামিচামি ও দালালি করেছেন দুই চাচা ভাতিজা। গ্রামের অন্য আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে দূরে ঠেলে দিয়ে চাচা ভাতিজা মহিলা এমপির ডানে বামে জায়গা করে নেন। চাটুকারিতা করে মহিলা এমপির স্বামিকে হাত করে একের পর এক সুবিধা নিতে থাকেন দুইজন সমানভাবে।

এমনকি মহিলা এমপির সমাবেশে ভাতিজা রানা তার পিতাকে সভাপতির আসন গ্রহন করান এবং নিজে মহিলা এমপিকে উন্নয়নের অগ্রদূত হিসাবে উপাধি দেন। এই তোষামুদীর বিনিময়ে রানা পান ফেনারবাঁক বাজারের ২০ লাখ টাকার বিভিন্ন প্রকল্প। উক্ত প্রকল্পের তার নিজের হাতের লেবার পেমেন্টের হিসাবের খাতাও এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এছাড়া মহিলা এমপির গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পেও রানা লেবার পেমেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মহিলা এমপির স্বামি ভাতিজার আনুগত্যের পুরস্কার হিসাবে মাসে মাসে ভাতা দিতেন ভাতিজা রানাকে এমন অভিযোগও আছে। রানার ছোট ভাই এনজিও কর্মি সাইফুলের চাকুরী চলে যায় দুর্নীতির কারনে। তখনও মহিলা এমপির সুপারিশে রানার ভাই চাকুরীতে পুনর্বহাল হয়। মহিলা এমপির সুবিধা নিতে ভাতিজার মতো চাচা তৌফিকও এগিয়ে ছিলেন। তিনি সরাসরি নিজের আপন ভাতিজাকে পুলিশের কনষ্টেবল পদে চাকুরী নিয়ে নিলেন মহিলা এমপির সুপারিশে। আপন বড় ভাইকে দিয়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করান তৌফিক।

আওয়ামী লীগের নিজ গ্রামের লোকজনকে বঞ্চিত করে তৌফিক ও সেলিম দুই ভাই মিলে কবরস্থান মসজিদ মাদ্রাসা গুচ্ছগ্রাম রাস্তা-কুর সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ করেছেন। এমনকি বিল অনাদায়ে এক বছর তৌফিকের বাড়ীতে বিদ্যুতের লাইন কাটা ছিল। মহিলা এমপির স্বামি নিজের টাকা দিয়ে বিল পরিশোধ করে তৌফিকের বাড়ীর বিদ্যুৎ লাইন ফিরিয়ে আনেন বলে জানা গেছে।তৌফিকের ছেলেকে নেত্রকোনা কলেজেও ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন মহিলা এমপি।

মুজাম্মেল নামে একজন বিএনপি কর্মীর নামে প্রকল্প এনে তৌফিককে দিয়েছেন মহিলা এমপির স্বামি। এইভাবে দুই চাচা ভাতিজা আওয়ামী লীগের ১৫ বছর বিস্তর সুবিধা ভোগ করেছেন। এমনকি সারাদেশের বিএনপির সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও আওয়ামী লীগের নেতা ও এমপিদের দালালী করার কারনে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি থাকার পরেও তৌফিক চৌধুরীর বিরুদ্ধে গত ১৫ বছরে একটি মামলাও হয় নি। বরং দাপট দেখিয়েছেন সর্বত্র। এ বিষয়ে তৌফিক চৌধুরী ও জুলফিকার চৌধুরী রানার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!