সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র সড়কটি ইট বিছানো। এমনিতেই ভাঙাচোরা সড়ক। এরমধ্যে গত কয়েক বছরের বন্যায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কটি। দুইপাশে হাওর থাকায় ঢেউয়ের তোড়ে কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে বিলীন হয়েছে হাওরে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সড়কের ইট। সেতু, কালভার্টের উভয় পাশ থেকে সরে গেছে মাটি। এ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষকে যাতায়াত করতে হয় এই সড়কে। এ চিত্র জেলার মধ্যনগর উপজেলার প্রধান সড়কটির।
উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ও চামরদানী ইউনিয়নের লক্ষাধিক জনগণকে এলজিইডির এই সড়ক ব্যবহার করেই মধ্যনগর উপজেলা সদরে যোগাযোগ করতে হয়।
মধ্যনগর থেকে মহিষখলার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। ওই তিনটি ইউনিয়নের জনগণ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার হাজারো মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় উপজেলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অবস্থা বেহাল। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দূর-দূরান্তের যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙাচোরা এই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।
উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইনামুল গণী তালুকদার রুবেল বলেন, উপজেলায় এখনো কোনো হাসপাতাল হয় নি। এখানকার অসুস্থ রোগী ও প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা নিতে যেতে হয় পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা অথবা পার্শ্ববর্তী ধর্মপাশা উপজেলায়। সড়কের এই বেহাল দশায় রোগীদের ওই সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ কারণে অনেক সময় রাস্তায় রোগী মারা যায়।
উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৮-০৯ অথর্বছরে এলজিইডির আওতায় মধ্যনগর-মহিষখলা সড়কের ১৮ কিলোমিটার ইট বিছানো সড়ক (এইচবিবি) নির্মাণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, নির্মাণকালে হাওরের ঢেউয়ের কারণে সৃষ্ট ভাঙন ঠেকাতে পাকা ব্লকের পরিবর্তে জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা দেয়া হয়, যা নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে ঢেউয়ের আঘাতে ধ্বসে পড়ে। নির্মাণকালে সড়কের প্রস্থ ছিল ২৪ ফুটের মতো। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া ও গত কয়েক বছরের বন্যার প্রভাবে সড়কটি ভেঙেচুরে সংকুচিত হয়ে কিছু অংশে ৫ ফুট, কোথাও ৩ ফুট প্রস্থ দাঁড়িয়েছে। আবার কিছু অংশে পুরো সড়ক হাওর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা হাজং শ্রী দশরথ চন্দ্র অধিকারী বাসিন্দা বলেন, এই সড়কটি উপজেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি যান চলাচলের উপযোগী নয়। যার দরুন সীমান্তবর্তী এলাকা মহিষখলা থেকে উপজেলা কেন্দ্রীক সেবা গ্রহণ করতে মধ্যনগর যাওয়া দুর্ভোগের নামান্তর। বর্তমানে এই সড়কের কিছু অংশে ঢিমেতালে পুননির্মাণ কাজ চলছে। দ্রুতগতিতে সড়কের পুননির্মাণ কাজ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সড়কটির জনচলাচলের উপযোগী রাখতে সাময়িক সংস্কার করার দাবি জানাই।
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর খসরু বলেন, মধ্যনগর উপজেলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে বিভিন্ন অংশে পুননির্মাণ কাজ শুরু হলেও কাজের গতি কম। এ পরিস্থিতিতে সড়কের বিপদজনক অংশে সাময়িক মেরামত করা হলেও চারটি ইউনিয়নের মানুষের চলমান দুর্দশা আপাদত লাঘব হবে।
মধ্যনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী (অঃ দাঃ) শাহাব উদ্দিন জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি পুণঃনির্মাণে তিনটি প্যাকেজ গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে দুইটি প্যাকেজে ১২ কিলোমিটার সড়ক পুননির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যায় আগামী অর্থ বছরে পুরোদমে সড়কটির পুননির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে এই মুহূর্তে আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় সড়কে সাময়িক সংস্কার কাজের কোনো সুযোগ নেই।