বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনী ও কঙ্গনা রানাউত অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বর্তমানে তারা দুজনেই সংসদ সদস্য। সম্প্রতি লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ দুই অভিনেত্রী। নারী সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ায় অভিনেত্রী হেমা মালিনী ও কঙ্গনা রানাউত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দুজনেই গভীরভাবে হতাশ এবং এই দিনটিকে নারীর জন্য সবচেয়ে খারাপ দিন বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে হেমা মালিনী লিখেছেন, গতকালকের সংসদীয় অধিবেশনে নারী সংরক্ষণ বিলটি সংসদে আটকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, যেসব নারী জাতীয় বিষয়ে বৃহত্তর অংশগ্রহণের আশা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি দুঃখের দিন। ব্যক্তিগতভাবে আমি বেশ হতাশ। কারণ ভোটের ঠিক আগে আমি সংসদে বিলটির গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছিলাম।
এ বিল প্রসঙ্গে কঙ্গনা রানাউত বলেন, আজ (১৮ এপ্রিল) যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এটা চরম লজ্জাজনক। কঙ্গনা আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস দল সব সীমা অতিক্রম করেছে এবং ভারতের মেয়েদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। বিরোধীরা দাবি করেছিল যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার দক্ষিণ ভারত ও উত্তর-পশ্চিমসহ কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতি অবিচার করছে।
বিরোধীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, তারা নারী সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করলেও এই সাংবিধানিক সংশোধনীর ফলে বেশ কয়েকটি রাজ্যের প্রতি অবিচার হবে—এ যুক্তিতে তারা এর বিরোধিতা করে। যেহেতু এই বিলটি একটি সাংবিধানিক সংশোধনী ছিল, তাই এটি পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল। বিধানসভায় সরকারের এ সংখ্যক ভোট ছিল না। নারী সংরক্ষণ বিলের লক্ষ্য হলো—লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীর জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা।
নারীর জন্য আসন সংরক্ষিত হয়ে গেলে, মহিলা এমপি বা এমএলএরাই বিধানসভায় নির্বাচিত হবেন। উল্লেখ্য, অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতকে শেষবার দেখা গেছে, মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ইমার্জেন্সি’ সিনেমায়। এ সিনেমায় তিনি ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তিনি শুধু এতে অভিনয়ই করেননি, সিনেমাটি পরিচালনাও করেছিলেন।
এরপর তাকে আর মাধবনের বিপরীতে ‘সার্কেল’ সিনেমায় দেখা যাবে। এর মাধ্যমে তিনি হলিউডেও পা রাখতে চলেছেন। অন্যদিকে হেমা মালিনীকে সর্বশেষ ২০২০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শিমলা মির্চি’ সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে হেমা আর কোনো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হননি।