ঘড়িতে সময় তখন সকাল ৮টা বেজে ৩০ মিনিট। পেইন্টার (রঙ মিস্ত্রি) ওসমান গণি তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুমাকে চা দিতে বলেন। তবে চা দিতে দেরি হওয়ায় মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দুই মাসের নিষ্পাপ এক কন্যা শিশুকে আছাড় মেরে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। নিহত ওই কন্যা শিশুর নাম সাফরিনা জান্নাত মাহিরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া ৯ নাম্বার ওয়ার্ড চারিয়া মুরাদপুর গ্রামে এ নির্মম ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বাবার নাম ওসমান গণি। তিনি ওই গ্রামের ইব্রাহীম মেম্বার বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।
শিশু মাহিরার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জসিম মেম্বার। তিনি জানান, মানুষ কতটুকু নির্মম হলে নিজের মেয়েকে মায়ের বুক থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আছাড় দিতে হত্যা করতে পারে; তা বোধগম্য হচ্ছে না। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টায় শিশুটির পিতা তার স্ত্রী সুমাইয়াকে চা দিতে বলেন। রাতে বাচ্চা না ঘুমানোর ব্যাপার নিয়ে এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ওসমান গণি তার স্ত্রীর কোল থেকে তার দুই মাসের মেয়েকে কেড়ে নিয়ে দুইবার মাটিতে আছাড় দেয়। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এ সময় শিশুটির মা সুমাইয়ার চিৎকার শুনে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. এসএম মেজবাহ উল করিম শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এসআই মো. হাবীবুর রহমান ফোর্স নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে ওসমান গণি আত্মগোপন করেছেন। এ ঘটনায় ওসমান গণির চাচা রুম্মানকে পুলিশ আটক করেছে। পলাতক ওসমাণ গণিকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।