সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:- ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এ গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতার পক্ষে তদবির করার কারনে যবদল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
বহিস্কার হওয়া নেতা হলেন সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুস শহীদ।
জানা যায়, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এ গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহ সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় দ্বন্দ্ব।
বহিস্কৃত যুবদল নেতা এম এ শহীদের দাবি, মিজানুর রহমান বিএনপির লোক, সে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। তাকে যুবলীগ নেতা বানিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম মজনুর দাবি, মিজানুর রহমান মিজান যুবলীগের রাজনীতি করে, সে অনেক মানুষকে হয়রানী করেছে। এ নিয়ে মধ্যনগরে দুইপক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।
মধ্যনগরে বাজারে বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি অফিস ভাংচুরের অভিযোগ উঠে। এরপর বিএনপি ও যুবদলের সংঘর্ষ এড়াতে শুক্রবার রাতেই বাজারে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল রায়।
এদিকে জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতাদের অবগত করলে দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার বিকেলে এম এ শহীদকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
রবিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ দপ্তর সম্পাদক মিজানুল ইসলাম ভূইয়া স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে এম এ শহীদকে বহিষ্কার করার বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের ফেসবুক পেজেও সেটি প্রকাশ করা হয়।
জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুস শহীদ (এম এ শহীদ) বললেন,‘ আমি এখনও নিশ্চিত মিজানুর রহমান যুবলীগের রাজনীতি করেনি।
সে সব সময় বিএনপির রাজনীতি করেছে। রোববার সকাল ১১ টায় আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জবাব দেওয়ার আগেই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হল।
ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আমার বক্তব্য শোনা উচিত ছিল। তবে এখনও আমি যুবদলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দলের প্রতি আমার আন্তরিকতা কমবে না।’
সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আমিনুর রশীদ বলেন, ‘মধ্যনগরে যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এম এ শহীদের আচরণ দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
শনিবারই বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পরপরই আমরা কেন্দ্রকে অবগত করি। রোববার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।