সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহমেদ আলী ও ওই কমিটিতে পদবঞ্চিত রুবেল মিয়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ওইদিন সন্ধ্যায় রুবেল মিয়াসহ তার পক্ষের আহত আরও দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। রাত আটটার দিকে উপজেলা বিএনপি আহ্বায়ক লিয়াকত আলী ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শওকত আলী বেপারী হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এ সময় দুজনেই এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
গত মঙ্গলবার রাতে সেলবরষ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের ৬৭ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে বীরদক্ষিণ গ্রামের লোকমানের ছেলে রুবেল মিয়া সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। কিন্তু রুবেল মিয়াকে কমিটিতে রাখা হয়নি। ফলে রুবেল মিয়াসহ পদবঞ্চিতরা একাট্টা হয়ে বুধবার বিকেলে রুবেলের নেতৃত্বে ওই কমিটির বিরুদ্ধে বাদশাগঞ্জ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
অপরদিকে আহমেদ আলী পক্ষ বাজারেই অবস্থান করছিল। মিছিলটি বাজারের সাবরেজিষ্টার কার্যালয়ের সামনে গেলে দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ বাধে। এতে রুবেল মিয়া, মাটিকাটা গ্রামের সাকিন, দুলা মিয়া, নেকারুল, সিকান্দর মিয়া, মনিরুজ্জামান মনিরসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৮ আহত হয়। আহত রুবেল মিয়া বলেন, কমিটিতে যাকে সভাপতি করা হয়েছে তাকে কেউ চিনেই না। আওয়ামী লীগের লোকজনকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।
তাই আমরা ‘কমিটি মানিনা, মানবো না’- শ্লোগান দিয়ে মিছিল করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আহমেদ আলী, মিশু, মনির, সিকান্দর, আমুর, বাপ্পীসহ অন্তত ১৫-২০ জন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করে। সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, যারা ত্যাগী নির্যাতিত তাদেরকে দিয়ে কমিটি দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বিএনপি নামধারী আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে আমার ওপর হামলা ও আমার দোকান ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো এই হামলা করার জন্য বলেছে এবং তার (ভুট্টো) নেতৃত্বেই সবকিছু হয়েছে। আর এটি প্রতিহত করতে গিয়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমার লোকজনও আহত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্তা নেই।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আমাকে জড়িয়ে কেন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছে তা বুঝতে পারছিনা। ঘটনার সময় আমি উপজেলা সদরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের সাথে ছিলাম। এ ঘটনায় জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাই। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শওকত আলী বেপারী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এ ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার সময় জুলফিকার আলী ভুট্টো উপজেলা সদরে আমার সাথে ছিল। আর এ ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।