মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে বেড়েছে ছি/ন/তা/ই, কেউই নিরাপদ নন সিলেট অ/প/হ/র/ণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের ১০ সদস্য আ*ট*ক চুনারুঘাটে ধরা পড়ল ‘বহুরূপী’ প্রতারক ও ধ র্ষ ক মৌলভীবাজার জেলায় নূরীয়া মিশন এর পক্ষ থেকে ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র আয়োজনে রামাদান ফুড প্যাকেজ বিতরন এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতার করলো শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেট’ তাহিরপুর পুলিশের অভিযানে ১ পুরিয়া গাঁজা জব্দ, যুবককে মাদক কারবারি সাজিয়ে মামলা! হাদি হ/ত্যা/র আসামী ফয়সাল ও আলমগীরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু সিলেটে বার্টন, ইজি, মিলান, হিদায়াহ, ক্লাবহাউসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা সিলেটে নকল স্বর্ণ বিক্রির অভিযোগে আ ট ক ১ মুশফিকুল ফজল আনসারীসহ ৫ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার

শব্দদুষনে অতিষ্ঠ সিলেটবাসী : বাড়ছে নানা রোগ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ২৭৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নগরী সিলেটে এখন আর চারদিকে পাখির কিচিরমিচির শোনা যায় না। শোনা যায় গাড়ির বিকট হর্নের শব্দ।

যানবাহনের যত্রতত্র হাইড্রোলিক হর্ন, বিনা প্রয়োজনে এ্যম্বুলেন্সের হর্ণ, সাইলেন্সর বিহীন মটর সাইকেল, নানা ধরনের সাউন্ড সিস্টেমসহ বিরামহীন উচ্চ শব্দে অতিষ্ঠ সিলেট নগরবাসী।

সেই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রচারণা, পণ্য বিক্রি ও সভা-সমাবেশের তথ্য জানাতে নিয়মনীতি ছাড়াই চলছে মাইকের ব্যবহার। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে নগরবাসী।

এদিকে নগরীতে অসহনীয় শব্দদূষণের কারনে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ও কানে কম শুনছেন সেই সাথে বাড়ছে নানা রোগ। এর মধ্যে অনেকে হার্টের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

শুধু শহরে নয়, এখন গ্রাম গঞ্জেও শব্দদুষনের কারনে নানা রখম স্বাস্হ্য ঝুকিতে পড়েছেন শিশুসহ বয়স্ক লোকজন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানবাহনের উচ্চ শব্দে নাগরিক জীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ।

সহনীয় মাত্রার ২২ থেকে ৩৮ ডেসিবল বেশি শব্দের দূষিত সমুদ্রে রাতদিন হাবুডুবু খাচ্ছেন নগরবাসী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে এ দূষণকে অনেকে বলছেন ‘শব্দ সন্ত্রাস’। শব্দ দূষণ প্রতিনিয়তই নাগরিক জীবনকে প্রভাবিত করছে।

সকালে ঘর থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া থেকে আবার ঘরে ফিরে আসা অবধি শব্দ দূষণের যন্ত্রণায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে নানান স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বয়স্ক ও শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সব থেকে বেশি

উচ্চমাত্রার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিধিমালা। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, কোন এলাকায়, দিনের কোন সময়, কোন ধরনের শব্দ দূষণ আইনত দণ্ডনীয়।

সিলেট নগীরতে শব্দদূষণের অনেক উৎস রয়েছে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজ, মাইকের ব্যবহার ও বিনা করনে এ্যাম্বুলেন্সের হর্ন এখন যন্ত্রণার, বেদনার, জীবনবিনাশীও।

বাংলাদেশে উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা থাকলেও এর প্রয়োগ নেই। যে কারণে বধিরতা বাড়ছে, সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কদমতলী এলাকায় গাড়ির হাইড্রলিক হর্ণের কারনে এলাকার লোকজন ও ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। তাদের মতে সারাদিনের শব্দদুষনের ফলে বিভিন্ন রোগব্যধী বাড়ছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অযথা গাড়ির হর্ণ ব্যবহার করে, যার কারনে আশপাশের লোকজনের হার্টের রোগসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। উচ্চমাত্রার শব্দদুষনের আইন থাকলেও প্রশাসনের তরফ থেকে নেই কোন বাস্তবায়ন।

সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্হান ঘুরে দেখা গেছে, বিনা কারনে এ্যাম্বুলেন্সের হর্ণ বাঝানো হচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া এরখম হর্ণ বাঝানো শব্দদুষনের জন্য যথেষ্ট। খোজ নিয়ে জানা গেছে, এ্যাম্বুলেন্স গুলো তাড়াতাড়ি তাদের ষ্ট্যান্ডে পৌছার জন্য কোন রোগী ছাড়াই অযথা হর্ণ বাঝিয়ে চলে। তাদের এই প্রতারনাও প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে।

সরেজমিনে দেখা  যায়, শব্দদুষন নিয়ন্ত্রনে আইন আছে শুধু মাত্র হাইওয়েতে। তার কারন সেখানে গাড়ি গুলো আটকিয়ে চাঁদা নিতে সুবিদা হয়।

মাঝে মধ্যে হাইওয়েতে প্রত্যেকটি গাড়ি থামিয়ে হাইড্রলিক হর্ণ আছে কিনা পরিক্ষা কর হয়। পাওয়া গেলে উৎকোচের বিনিময়ে সমাধান হয়ে যায়।

শুধু যে বাইরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে শব্দ দূষণ হয়, তা নয়; বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও শব্দ দূষণ হয়।

অপরদিকে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে কেবল গাড়ি চলমান অবস্থায়ই নয়, যানজটের সময়ও চালকরা অহরহ হর্ন বাজিয়ে চলেন। হর্নের শব্দে রাস্তার পাশে চলা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

এতেও নেই কোন বিধিনিষেদ। নগরীর সকল সড়কে বিকট শব্দে হর্ন বাজিয়ে চলেন চালকরা, যার বেশিরভাগই বাজানো হয় অপ্রয়োজনে অথচ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর অধীনে বিধিমালায় সম্পুর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।

শব্দ কখন ‘দূষণ’ হয়:- কোনো বস্তু যদি প্রতি সেকেন্ডে ২০ বারের বেশি কিংবা ২০ হাজার বারের কম কম্পিত হয় তাহলে শব্দ সৃষ্টি হয়। বস্তুর কম্পনের ফলে পরিবৃত বাতাসের যে পর্যায়ক্রমিক ঘনীভবন (Compression) ও তনুভবন (Rarefaction) ঘটে, তা চতুর্দিকে বিস্তৃত হয়ে যে তরঙ্গ গতির সৃষ্টি হয়, তাকে শব্দ তরঙ্গ বলে। এ শব্দ তরঙ্গ কানের পর্দায় আঘাত করলে ‘শব্দ’ হিসেবে তা অনুভূত হয়।

মাত্রা অনুযায়ী শব্দ তিন ধরনের হয়ে থাকে। শব্দের তীব্রতা (কর্কশ বা কোমল), তীক্ষ্ণতা (উঁচু বা নিচু) এবং স্বর (শব্দের বিশিষ্টতা)। শব্দের তীব্রতা শব্দ তরঙ্গের দৈর্ঘ্য বা বিস্তারের ওপর নির্ভর করে।

শব্দ তরঙ্গের বিস্তার সমান হলে সেই শব্দ শ্রুতিমধুর হয়। শব্দ তরঙ্গের বিস্তার ও শ্রুতির পার্থক্যে শব্দ কর্কশ হয়। কর্কশ শব্দের সঙ্গে আমাদের কান ‘অপরিচিত’ হলে শব্দ অসহ্য লাগে।

শব্দের প্রভাবে জীবের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় বলে একে ‘শব্দদূষণ’ বলে তারতম্য ও ভিন্নতার কারণে শব্দ প্রধানত দুভাগে ভাগ করা হয়।

সুরযুক্ত শব্দ (Musical Sound) ও সুরবর্জিত শব্দ (Noise)। সুরবর্জিত শব্দই দূষণের অন্যতম কারণ। যা আসলে মানুষের তৈরি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য পরিবেশগত সমস্যা। যেমন- গাড়ির হর্ন, ইটভাঙার মেশিনের শব্দ, জেনারেটরের শব্দ, কলকারখানায় সৃষ্ট শব্দ, মিউজিকের শব্দ বা মাইকের শব্দ, ট্রেনের হুইসেলের শব্দ, বিমান ওড়ার শব্দ, পটকা ও আতশবাজির শব্দ।

গ্রহনযোগ্য শব্দের মাত্রা:- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আমেরিকান স্পিচ অ্যান্ড হেয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন (আশা) গ্রহণযোগ্য শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তাদের মতে, আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনের বেলা ৫৫ ডেসিবল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবল হওয়া উচিত।

বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৬৫ ডেসিবল, রাতে ৫৫ ডেসিবল; শিল্পাঞ্চলে দিনে ৭৫ ডেসিবল, রাতে ৬৫ ডেসিবলের মধ্যে শব্দমাত্রা থাকা উচিত। মেডিকেল কিংবা হাসপাতাল এলাকা হবে সাইলেন্স বা নীরব জোন। যেখানে দিনে ৫০, রাতে ৪০ ডেসিবল শব্দমাত্রা থাকা বাঞ্ছনীয়।

শব্দদূষণের কারণ:- ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরিপে শব্দদূষণের উৎস হিসেবে যানবাহনের হর্ন-কে প্রধানত দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণকাজ, সামাজিক অনুষ্ঠান, মাইকিং, জেনারেটর ও কলকারখানা থেকে সৃষ্ট শব্দ উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে যা আছে:-

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন- ১৯৯৫ এর ক্ষমতাবলে ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা- ২০০৬’ প্রণয়ন করা হয়। বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মানমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

আইন অমান্য করলে প্রথমবার অপরাধের জন্য এক মাস কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড; পরবর্তীতে ফের শব্দ দূষণের অপরাধে শাস্তি ছয় মাস কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। কিন্তু বাস্তবে এ আইনের তেমন প্রয়োগ দেখা যায় না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ আইনে কি বলা হয়েছে?:- শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণ।

(১) সরকার বা সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, মোটরযানের শব্দমাত্রার সীমা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) কোনো মোটরযান চালক উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনোরূপ শব্দ সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।

(৩) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কর্তৃক, আদেশ দ্বারা, ঘোষিত নীরব এলাকা অতিক্রমকালে কোনো মোটরযান চালক কোনোরূপ হর্ন বাজাইতে পারিবেন না

(৪) কোনো মোটরযান চালক, মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত শব্দমাত্রা সৃষ্টিকারী কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ন মোটরযানে স্থাপন, পুনঃস্থাপন বা ব্যবহার করিতে পারিবে না বা করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে না।

(৫) উপ-ধারা (২) ও (৩) ও যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নি-নির্বাপক যান, জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত যান ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত মোটরযানে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত শব্দমাত্রার হর্ন সংযোজন করা যাইবে।

(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিবেশসং রক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে।

শব্দদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি:- শব্দদূষণ থেকে বধিরতা ছাড়াও নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ৩০টি কঠিন রোগের কারণ ১২ রকমের পরিবেশদূষণ।

যার মধ্যে শব্দদূষণ অন্যতম। শব্দদূষণের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দনে পরিবর্তন, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সঞ্চালন কমে যেতে পারে। ফলে শ্বাসকষ্ট, মাথাঘোরা, বমি বমিভাব বা বমি হওয়া, দিক ভুলে যাওয়া, দেহের নিয়ন্ত্রণ হারানো, মানসিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

বিআরটিএ কি বলছে:- উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যানবাহনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানার জন্য  বিআরটিএ’র সিলেটের সহকারি পরিচালক (ইঞ্জি:) মোঃ আবু আশরাফ সিদ্দিকীর মোবাইলে কয়েকবার কল দিলে তা রিসিভ করেন নি।

পুলিশের কাজ কী:- সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মাহফুজুর রহমান রহমান এ বিষয়ে বলেন, আমরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এর অধীনে বিধিমালা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

২০১৮ সালের সড়ক আইনে যা আছে তা আমরা বাস্তাবায়ন করতে বদ্ধ পরিকর, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন যে কোন অনিয়ম বা আইন পরিপন্হি কাজের বিরুদ্ধে সবার আগে জনগনকে এগিয়ে আসতে হবে পুলিশের পক্ষে একা সম্ভব না। জনগন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর যা বলছে:- শব্দদূষণ রোধে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয়ে সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: বদরুল হুদা বলেন, আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

সেই সাথে বিভিন্ন শব্দদুষন প্রতিরোধে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও সর্বস্হরের জনসাধারনকে সাথে নিয়ে জন সচেতনামুলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হচ্ছে তিনি বলেন, শুধু পরিবেশ অধিদপ্তরের একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

ব্যক্তি থেকে শুরু করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সবার আন্তরিক সহযোগিতা দরকার। তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইতিমধ্যে হাইড্রলিক হর্ন আমদানী বন্ধে ব্যবস্হা নিতে মন্ত্রনালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

শব্দদুষন নিয়ে সিলেট নগরীর সচেতন নাগরিকবৃন্দের পরামর্শ হল, বাস টার্মিনালগুলোতে গিয়ে ড্রাইভারদের নিয়মিত কাউন্সেলিং, শব্দ দূষণের কুফল সম্পর্কে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত সেমিনার করা সর্বোপরি আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই শব্দ দূষণ প্রতিরোধ সম্ভব। নয় তো ধীরে ধীরে বধির নগরীতে পরিণত হবে সিলেট নগরী।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!