বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:- বানিয়াচংয়ে বৈষম্যবিরোধি আন্দোলনে ৯ মার্ডার মামলায় আসামী করার ভয় দেখিয়ে আওয়ামী নেতা-কর্মী ও পুলিশের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক নকীব ফজলে রকিব মাখন।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের দলীয় নেতাকর্মী সভা সমাবেশ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মীর কাছে অভিযোগ করেছেন।
এদিকে, উপজেলার ৯নং পুকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমানসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুজিবুল হোসেন মারুফ ও নকীব ফজলে রকিব মাখনের দলীয় পদ স্থগিত করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জিকে গউছ।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারী) স্বাক্ষরিত এক পত্রে তিনি তাদের পদ স্থগিত করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আল হাদিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাহির হোসেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
একই পত্রে জিকে গউছ অভিযোগের বিষয়টি সরজমিনে যাচাই-বাচাই ও স্বাক্ষী প্রমানাদি সংগ্রহের জন্য জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, এডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম ও আব্বাস উদ্দিনকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
এতে স্ব-শরীরে উপস্হিত হয়ে শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন আগামী এক মাসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এর আগে গত ২০ ডিসেম্বর পুকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমানসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যা তারেক রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও জিকে গউছের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হোসেন মারুফ ও সাধারণ সম্পাদক নকীব ফজলে রকিব মাখন অর্থ বানিজ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েন।
৯ মার্ডার মামলায় আসামী করার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় আওয়মীলীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের নেতা-কর্মীর কাছে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার প্রতিবাদে তাদের বিরুদ্ধে সভা সমাবেশ করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মী। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দ্রত ব্যবস্থা গ্রহনে জিকে গউছসহ দলীয় শীর্ষ নেতাকর্মীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে পুকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাওলানা লুৎফুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় অনেক অভিযোগ রয়েছে। ৯ মার্ডার মামলার ভয় দেখিয়ে তারা কোটি টাকা বানিজ্য করেছেন।
এতে উপজেলাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতা-কর্মীরা তাদের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আমরা দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতা-কর্মীর কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরেছি’।