প্রথম সকাল ডেস্ক:- বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তার ছেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীর, দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সিলেটের আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক ব্যুরোপ্রধান, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ নূর। আদালতের বিচারক আবুল মোমেন মামলাটি গ্রহণ করে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, কালের কণ্ঠের প্রকাশক ময়নাল হোসেন চৌধুরী, বর্তমান সম্পাদক হাসান হাফিজ, চেক স্বাক্ষরকারী সাবেক সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ও নঈম নিজাম এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে কালের কণ্ঠ। নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ও অন্যান্য ধারা অনুযায়ী মামলাটি করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, মামলার বাদী বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ থেকে প্রকাশিত দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ১২ বছর সিনিয়র রিপোর্টার পদমর্যাদায় সিলেট অফিসের ব্যুরো প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
কিন্তু সংবাদপত্র ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী দীর্ঘদিনের সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করেন। এক পর্যায়ে বেনিফিটের টাকা পরিশোধে সম্মত হন। কিছু টাকা পরিশোধ করেন। এছাড়া প্রতি মাসে একটি চেক নগদায়নের তারিখ দিয়ে গত জানুয়ারি মাসে ১০টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু দুটি চেক অনার হলেও আটটি চেক ডিজঅনার হয়। যার অর্থের পরিমাণ ৬ লাখ ০১ হাজার ৮২৪ টাকা।
বাদী আইনজীবীর মাধ্যমে উকিল নোটিশ পাঠালে আসামিরা এর জবাবে শিগগিরই টাকা পরিশোধের বিষয়টি তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে জানান। কিন্তু তারপরও কোনো টাকা পরিশোধের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় মঙ্গলবার সাতটি চেক ডিজঅনারের মামলা করেন।
এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর একটি চেক ডিজঅনারের মামলা একই আদালতে করা হয়েছিল। আদালত ওই মামলায়ও আসামিদের আদালতে হাজিরের জন্য সমন পাঠিয়েছেন। বা
দীর পক্ষে আদালতে মামলাটি করেন সিলেটের সিনিয়র আইনজীবী ও সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রশিদ সোয়েব, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ বুরহান উদ্দিন এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ রাহাত।
আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম মামলার দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আসামিদের হাজিরের জন্য সমন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বাদী সাংবাদিক আহমেদ নূর সিলেটের একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক। তিনি ভোরের কাগজের সিলেট ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালনকালে প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে প্রায় আট বছর ব্যুরো প্রধান ছিলেন।
কালের কণ্ঠ প্রকাশকাল থেকে প্রায় এক দশক ব্যুরো প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে সিলেটের আঞ্চলিক দৈনিক ‘সিলেট মিরর’ এর সম্পাদক পদে আছেন আহমেদ নূর।
মামলা দায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করেছি তার বিরুদ্ধে ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য মামলা করতে হয়েছে এটা দুঃখজনক। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিজের জন্য গ্লানিরও।
ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিকদের প্রতি মিডিয়া হাউসগুলো কি ধরণের আচরণ করে এটা বড় উদাহরণ। আমি আমার জন্য এবং আমার উত্তরসূরীদের প্রতিবাদী করতে এবং মুখ বুজে যাতে অন্যায় সহ্য না করেন, তার জন্য এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’