প্রথম সকাল:- সিলেট নগরীর ৩৬ নং ওয়ার্ডের বালুচর এলাকায় সিএনজি ড্রাইভার সাইফুল ইসলাম তার ভাই শফিকুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম ও মা কোহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে গৃহবধুকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আক্তার বর্তমানে সিলেট এম এজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ব্যাপারে জেসমিন বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে সিলেট শাহপরান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায়।
এজাহারে জানা যায়, বিগত ২০১৮ ইং সনে দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা দেন মোহর ধায্য করে সাইফুলের সঙ্গ জেসমিনের বিবাহ হয়।
বিয়ের ৬ মাস পর থেকে এজাহারে উল্লেখিত বিবাদীগণের কুপ্ররোচনায় সাইফুল জেসমিনকে তার পিত্রালয় হইতে টাকা পয়সা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া শুরু করে জেসমিন এতে অপারগতা প্রকাশ করিলে জেসমিনের স্বামী ১নং বিবাদী তাকে একাধিকবার মারধর করে।
জেসমিন এজাহারে উল্ল্যেখ করেন, উক্ত বিষয়াদি একাধিকবার উভয় পরিবারের লোকজন বসে আপোষ মিমাংসা করিয়া দেন। এরই মধ্যে তাদের সংসারে জীবনে সানজিন আক্তার নামে একজন কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।
জেসমিন আরো উল্ল্যেখ করেন, তিনি তার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিবাদীগণের নির্যাতন সহ্য করে সংসার করতে থাকেন। কিন্তু যৌতুকলোভী সাইফুল ও তার পরিবারের লোকজন জেসমিনকে প্রতিনিয়ত টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে এবং কয়েকবার মারধর করে। সন্তানের মুখের দিকে থাকিয়ে বাধ্য হয়ে জেসমিন কয়েকবার তার পিত্রালয় থেকে টাকা পয়সা এনে স্বামীকে দেন।, বর্তমানে জেসমিন ৮ মাসের অন্তসত্তা।
গত ০১/১০/২০২৪ উ তারিখ আনুমানিক সন্ধ্যা ০৬:৩০ ঘটিকার সময় উল্লেখিত বিবাদীগণের কুপ্ররোচনায় সাইফুল সিএনি গাড়ি ক্রয় করিবে বলে জেসমিনকে আবারও পিত্রালয় থেকে ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এতে জেসমিন প্রতিবাদ করলে এজাহারে উল্লেখিত ১-২নং বিবাদী জেসমিনকে চুলের মুটো ধরে মেঝেতে ফেলে এলোপাতাড়ি ভাবে কিল-ঘুষি সহ তলপেটে লাথি মেরে জখম করে।
এসময় জেসমিন চিৎকার করলে উল্লেখিত ১-৪ বিবাদী তাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে শ্বাসরোদ্ধ করার চেষ্টা করে তখন জেসমিন কোনরখম নিজেকে রক্ষা করেন। পরে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয় বিবাদীরা। টাকা না দিলে তালাক দিবে বলেও হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় জেসমিন শাহপরান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে শাহপরান থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্হা নেয়া হবে।