নিজস্ব প্রতিবেদক:- সিলেট নগরীর উপশহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারি কামরুল হাসান ওরফে লম্বা হাসান ওরফে হাসান রাজার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসান ও তার বাহিনীর হাতে প্রতিদিন কোন না কোন লোক ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন। সে নিজেকে ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় চলাফেরা করলেও তার মুল পেশা হচ্ছে ছিনতাই।
তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের পড়তে হয় মিথ্যা মামলায় আর নতুবা দেয়া হয় প্রাণনাশের হুমকি। এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে চিন্হিত ছিনতাইকারি হাসানের বিরুদ্ধে।
হাসান জকিগঞ্জের হাইদ্রাবন গ্রামের খবিরুল হকের ছেলে সে বর্তমানে নগরীর ২২ নং ওয়ার্ডের শাহজালাল উপশহরে বসবাস করছে। হাসান দীর্ঘদিন উপশহরে বসবাসের কারনে প্রভাব প্রতিপত্বির জোরে প্রতিদিন ছিনতাই করে যাচ্ছে বলেও এলাকা সুত্রে জানা গেছে। তার এমন কর্মকান্ডের ফলে এলাকার যুব সমাজ, বর্তমান প্রজন্মের ছেলেসহ এলাকাবাসী আতংক আর ভয়ে রয়েছেন।
হাসান শুধু উপশহর নয় সে সিলেট নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ছিনতাই করে বেড়ায়। সে গত ২৪ আগষ্ট রাত সাড়ে বারোটার সময় মোগলাবাজার থানাধীন পরাইরচক-শ্রীরামপুর রাস্তার উপর থেকে চিনি বোঝাই ট্রাক ছিনতাই মামলা নং-০৫ এর পলাতক আসামী। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ডাকাতি মামলা। সে নগরীর বিভিন্নস্হানে ছিনতাই করে বেড়াত।
কে এই হাসান:- খোজ নিয়ে জানা যায়, হাসান দেশের ছিনতাইকারি চক্রের সক্রিয় লিডার। সে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্হানে ছিনতাই করে মুহুর্তে সটকে পড়ে। আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় থাকাকালিন সে ঢাকাতেই বেশী সময় কাটিয়েছে।
সুত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা থেকে হাসানকে আটক করে পুলিশ। কয়েকদিন জেলও কাটেন তিনি। জেল থেকে বের হয়ে ফের শুরু হয় তার ছিনতাইয়ে অভিযান। হাসান নিজেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন।
সুত্র থেকে জানা যায়, ছিনতাইকৃত টাকা ছাত্রদলের কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ইচ্ছেমত খরচ করতেন, আর সেজন্য নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন।
কখনও সিলেট কখনও ঢাকা:- বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, হাসান ঢাকাতে ছিনতাই করলে আশ্রয় নিতেন সিলেটে আর সিলেটে ছিনতাই করলে আশ্রয় নিতেন ঢাকা। ঢাকাতেও তার রয়েছে একটি ছিনতাইকারি গ্রুপ। যাদেরকে দিয়ে সে সিলেটে ছিনতাই করাত।
সিলেটেও রয়েছে তার একটি গ্রুপ, হাসানের ছিনতাইকারি গ্রুপের মধ্যে উল্ল্যেখ যোগ্য হলেো-আব্দুল করিম, ফয়সল আহমদ, মনির আহমদ, রায়হান আহমদ সেলিম উরফে ডাইস সেলিম, রাশেদ আহমদসহ বেশ কয়েকজন।
জানা যায়, গত ১৩ নভেম্বর ছিনতাইকারি হাসান ও তার বাহিনী নগরীর সোনারপাড়ার আব্দুল মালেক সেকুর একটি প্রাইভেট কার সেকুর ড্রাইভারের কাছ থেকে ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সেকু বাদী হয়ে শাহপরান থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন মামলা নং:-২১।
হাসানের হুমকি:- হাসান ও তার বাহিনী সেকুর কার ছিনতাই করার পর মামলা দায়ের করার কারনে মোবাইল ফোনে হুমকি দেন। তার হুমকির অডিও ভয়েস প্রথম সকালের কাছে এসেছে। অডিও ভয়েসে শুনা যায়, হাসান সেকুকে হুমকি দিয়ে বলছেন তোর জীবন ধ্বংস করার জন্য আমার কাছে যথেষ্ট পরিমান টাকা ও ব্যবস্হা রয়েছে। তোকে যে কোন সময় শেষ করতে আমার বেশী সময় লাগবে না।
আসামী গ্রেফতার:- আব্দুল মালেক সেকুর দায়ের করা মামলায় ৪ নং আসামী মনিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।