নিজস্ব প্রতিবেদক:- সিলেট নগরীতে পুলিশের নাকের ডগায় দাগী আবাসিক হোটেল গুলোতে চলছে রমরমা দেহ ব্যবসা। পুলিশ, নেতা ও তথাকথিত সাংবাদিকদের মাসিক বখরা দিয়ে চলে এসব অসামাজিক কর্মকান্ড। এতে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ অপরদিকে গ্রাম থেকে আসা নিরীহ মহিলা শহরে চলাচল করতে গিয়ে পড়েন বিভিন্ন সমস্যায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা অনেকেই পড়েন বিপাকে। লোকলজ্জার ভয়ে কিছু না বল্লেও আধ্যাতিক নগরীতে হোটেল গুলোতে এমন অবৈধ ব্যবসায় তারা বিচলিত।
সিলেট নগরীতে এসব চামড়া ব্যবসা অনেক আগ থেকে চলে আসছে। মাঝে মধ্যে চাপে পড়ে লোক দেখানোর জন্য ২/১ হোটেলে অভিযান পরিচালনা করা হলেও ধরাচোয়ার বাইরে থেকে যায় আসল অপরাধীরা। আবার কোন খদ্দের বা পতিতা গ্রেফতার হলে থানায় চলে যান দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত সেই সব সাংবাদিক তদবিরের জন্য৷

ফাইল ছবি
খোঁজ নিয়ে জানা যায় সিলেটের উত্তর ও দক্ষিণ সুরমার এমন কোন আবাসিক হোটেল নেই যেখানে চলেনা প্রকাশ্য বা গোপনে দেহব্যবসা। আর এই অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত দূর্ণীতিবাজ কিছু পুলিশ, কথিত সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, শ্রমিক নেতা, স্থানীয় কিছু পাতি নেতা। সবাই এই অবৈধ দেহব্যবসা থেকে বখরা পায় নিয়মিত। যারা এই অবৈধ ব্যবসার প্রতিবাদ করে বা সংবাদ প্রকাশ করে তারা সেজে যায় চাঁদাবাজ।
সিলেট নগরীতে উল্ল্যেখ যোগ্য দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত হোটেল গুলো হল:- নগরীর কদমতলীতে হোটেল সাগর এন্ড রেস্ট হাউজ, তালতলার হোটেল সুফিয়ায় (আবাসিক), হোটেল বিলাশ, হোটেল সাদী, জননী আবাসিক, দক্ষিণ সুরমার কদমতলি এলাকার কয়েস আবাসিক হোটেল, ওসমানী হাসপাতাল এলাকার হোটেল বাধন আবাসিক, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তিতাস অবাসিক হোটেল, লাল দিঘীর পাড়ে ভাইভাই আবাসিক হোটেল, সুরমা মার্কেটে মেঘনা আবাসিক হোটেল, হোটেল টরেন্টো, হোটেল নিউ সুরমা, জিন্দাবাজার সবুজ বিপণী মার্কেটে হোটেল সবুজ বিপণী, বন্দর বাজারে হোটেল সিটি হার্ট, হোটেল মগানগর, হোটেল মজলিস, হোটেল তায়েফ, হোটেল নিরালা,হোটেল ইসলাম, মর্ডান আবাসিক, হেটেল তালহা, লালবাজারের হোটেল আলী, হোটেল আমির, হোটেল আল মিনার, হোটেল এলাহী, হোটেল আল জালাল, হোটেল বনগাঁও, মিনা বডিং, আম্বরখার হোটেল প্রভাসী, হোটেল নূরানী, হোটেল কায়কোবাদ,হোটেল শেরাটন, মেডিকেল রোডের হোটেল সফিক, পংকি রেস্ট হাউজ, চৌধুরী বডিং, মা বডিং, দক্ষিণ সুরমার হোটেল আল-তকদীর,হোটেল বিরতি, হোটেল কাশমীর অন্যতম। এসব হোটেল গুলোতে প্রতিদিনই চলে নারীদের দেহ খেলা।
গ্রামের সহজ সরল মেয়েদের দেহ ব্যাবসায় বাধ্য করানোর অভিযোগ রয়েছে এসব হোটেলে। তবে এসব ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ হোটেলের কর্মকর্তা কর্মচারী।

ফাইল ছবি
খোজ নিয়ে জানা যায়, প্রতারকরা প্রেমের অভিনয় করে সিলেটের গ্রামের সহজ সরল মেয়েদের নিয়ে আসে এসব হোটেলে। হোটেলে উঠে দৈহিক মিলনের সময় ভিডিও করে ফাঁসিয়ে দেয়া হয় মেয়েদের। এক পর্যায়ে হোটেল কর্মকর্তার যোগসাজসে ঐসব মেয়েদের দিয়ে করা হয় ব্যবসা।
তবে সুত্র থেকে জানা যায়, এসব দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত বেশীর ভাগই প্রবাসীর স্ত্রী, স্বামী পরিত্যাক্ত নারী, গরীব ঘরের মেয়ে ও বিধবাদের সংখ্যা বেশী। এক তথ্যে জানা যায়, পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়া নারীরাই বেশীর ভাগ এসব হোটেলে তাদের প্রেমিককে আত্বীয় পরিচয় দিয়ে উঠে রঙ্গলীলায় মেতে উঠে। অন্যদিকে গ্রামের সহজ সরল মেয়েদের বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসে শহরে। তারপর এসব মেয়েরা হয়ে যায় শিকার। অনেকে সাহস করে প্রতিবাদ করে আবার অনেকে পরিবারের মানসম্মানের কথা ভেবে এসব দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়ে উঠে পেশাদার পতিতা।
অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রেমিক-প্রেমিকা, এবং ছাত্র-ছাত্রীরা এসব হোটেলে চড়াদামে রেষ্টরুম ভাড়া করে অবৈধভাবে মিলিত হয়ে থাকে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কলেজ-ভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা এসব হোটেলে দৈহিক মিলনে মেতে ওঠে।

ফাইল ছবি
দেহ ব্যাবসায় জড়িত কয়েকজন মেয়ের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের জীবনের করুণ কাহিনী। এদের অনেকেই জানান, অভাবের তাড়নায় তারা এসেছেন এই পেশায়। আবার অনেকে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েছেন এসব কাজে। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, হোটেল কর্মকর্তা আর দালালরা তাদের এমন ভাবে ব্যবহার করেছে তারা এখন আর এই পেশা ছাড়তে পারবেন না।
সিলেট নগরীতে এসব আবাসিক হোটেলে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলে দেহ ব্যাবসা। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, এসব হোটেল থেকে প্রতিমাসে থানা পুলিশ পাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা এছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও দলীয় কয়েকজন নেতা পান সাপ্তাহিক ও মাসিক চাদা, এদের কাজ হল হোটেলের সমস্যা গুলো দেখা।
এসব হোটেলের কিছু নির্দিষ্ট ভাষা আছে। হোটেলের স্টাফ সুত্রে জানা যায়, আপনি হোটেলে ঢুকার পর হোটেল বয় এসে আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে কি খাবেন রং চা নাকি দুধ চা? আপনি যদি তাদের ভাষা বুঝেন তাহলে ওরা বুঝে নিবে ওদের নির্ধারিত লোকের মাধ্যে আপনি এসেছেন। আর না হয় আপনার পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে বুঝতে দিবে না হোটেলের ভিতরে কি হচ্ছে। রং চা মানে যুবতী আর দুধ চা মানে বিবাহিত নারী!! তবে একেক হোটেলের সাংকেতিক ভাষা একেকরখম।
এছাড়া তাদের কিছু ভিজিটিং কার্ডও আছে যে গুলো দেখালেই আপনি চলে যাবেন ক্ষনিকের সুখের রাজ্যে।
হোটেলের সামনে বসে থাকা দালাল বা হোটেল স্টাফরা দাড়িয়ে থেকে খদ্দের ডেকে ভেতরে নিয়ে যায়। আবার ভ্রাম্যমান দালালরা খদ্দের ধরে সারাসরি হোটেল নিয়ে আসে। আর হোটেল মালিক পক্ষ আশে পাশে থেকে পাহারা দেয়। তাদের কাছে আইনি কোন ভয় নেই কারন পুলিশ সাংবাদিক ও নেতা তাদের পকেটে।

ফাইল ছবি
প্রথম সকালের প্রতিবেদকের কাছে কয়েকটি হোটেলের স্টাফ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে এসব হোটেল চলত যুবলীগের নেতাদের মদদে আর এখন চলে সাংবাদিক, পুলিশ ও কিছু নেতার পরিচয়ে।
এই বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সেই পুরোনো কথা বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত এই ধরনের অবৈধ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া এই ধরনের অবৈধ ব্যবসা কাউকে চালাতে দেওয়া হবে না!!