শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান শাহজালাল (রহ.)–এর ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষনের জন্য জাদুঘর স্থাপনের নির্দেশ সিলেটে অনটেষ্ট সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা সিলেটে ফাহিম হ ত্যা মামলার পলাতক আসামি ‘কুত্তা রনি’ গ্রে ফ তা র জকিগঞ্জে ইট চুরির অভিযোগে যুব জামায়াতের সেক্রেটারিসহ গ্রেপ্তার ৬ ছাতকে বিভিন্ন মামলার ৩ আসামী গ্রেফতার জকিগঞ্জে রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার ছিনতাইকারীর হাতের কবজি কে টে পুলিশে সোপর্দ বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ‘স্যার’ সম্বোধন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে

মুন্না তুমি কার? বিএনপি নাকি আওয়ামিলীগের!

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৪
  • ৭২৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:- যুবলীগ নেতা  সাজ্জাদুর রহমান মুন্নাকে নিয়ে শুরু হয়েছে ভানুমতির  খেলা! বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নিরীহ ছাত্র জনতার উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে নগরীর শিবগঞ্জ সোনারপাড়া থেকে আটক করা হয়।  আটকের আগে তাকে বিএনপির কর্মী বা নেতা বলে কেউ স্বীকার করেননি কিন্তু তিনি আটক হওয়ার পর তাকে নতুন রুপে প্রকাশ করা হচ্ছে।

বলা হচ্ছে তিনি নাকি বিএনপি নেতা! সাজ্জাদুর রহমান মুন্নাকে নিয়ে প্রথম সকাল সুদুর ফিনল্যান্ড থেকে কুলাউড়া পর্যন্ত তথ্যের সন্ধান চালায়। যুবলীগ, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, যুবদলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীসহ স্হানীয় লোকজনের সাথে আলাপ হয়।

সুত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়, সাজ্জাদুর রহমান মুন্না একজন দুরন্ত প্রকৃতির যুবক। তিনি একজন সুবিদাবাদী প্রবাসী।  তিনি ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে এলাকায় বিভিন্ন সুযোগ সুবিদার জন্য নিজেকে আওয়ামী যুবলীগের সাথে  জড়িয়ে নেন, টাকার বিনিময়ে হয়ে যান যুবলীগ নেতা আর  এ কাজে তাকে  সহযোগিতা করেন সিলেটের আরেক ক্লিন ইমেজের যুবলীগ ক্যাডার মুশফিক জায়গীরদার ও শাহজালাল উপশহরের আরেক কথিত যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল উরফে ফাউল শামীম।

সাজ্জাদুর রহমান মুন্নাকে কুলাউড়া ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক বলে দাবী করলেও খোজ নিয়ে দেখা গেছে ২০১৮ সালের ১ মার্চ  এম. ফয়েজ উদ্দিনকে সভাপতি ও এম. গিয়াস উদ্দিন মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে  ১৯ সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছিল সে কমিটিতেও তার নাম পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারী মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের এর সভাপতি রুবেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আকিদুর রহমান সোহান স্বাক্ষরিত ২১ সদস্যের ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ছিলেন সুলতান আহমদ টিপু সেখানেও মুন্নার কোন অস্হিত্ব খোজে পাওয়া যায়নি।  বিষয়টি পরিস্কার হতে প্রথম সকাল বিস্তর খোজ নিয়ে দেখে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কোন কমিটিতেই সাজ্জাদুর রহমান মুন্নার ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। অপর দিকে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফিনল্যান্ড বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়, সেখানেও মুন্নার কোন ছায়া খুজে পাওয়া যায়নি!

এ ব্যাপারে ফিনল্যান্ড বিএনপির সভাপতি কামরুল হাসান জনি ও সাধারন সম্পাদক জামান সরকার সাজ্জাদুর রহমান মুন্নার ব্যাপারে জানতে তাদের ইনবক্সে ম্যাসাজ পাঠানো হলে ফিনল্যান্ড বিএনপির সাধারন সম্পাদক জামান বলেন, মুন্না প্রবাস জীবন থেকে বিএনপির সাথে জড়িত!! ফিনল্যান্ড বিএনপির অন্য নেতাদের ভাষ্যমতে সাজ্জাদুর রহমান মুন্না নামে কাউকে তারা ছিনেন না। তবে তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

তারা আরো জানান, মুন্না ফিনল্যান্ডে আওয়ামিলীগের সব নেতাদের অতি পরিচিত ছিলেন, তিনি দেশ থেকে কোন আওয়ামিলীগ নেতা ফিনল্যান্ড আসলে তাদের থাকা খাওয়াসহ সকল ব্যবস্হা নিজে করতেন। সাবেক মন্ত্রী মোমেনের সব ব্যাবসা তিনি দেখা শুনা করেন বলেও সুত্র গুলো নিশ্চিত করে।

সম্প্রতি চতুর মুন্নার একটি অডিও রেকর্ড ইতিমধ্যে গনমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। তাতে শুনা যাচ্ছে তিনি ফোনে কাউকে বলছেন একটা প্রতিবাদ সভা করার জন্য এতে যতটাকা লাগে তিনি দিবেন।

অডিও কলে তিনি বাবলু ও শকু নামের দুজনের কথা বলেন। খোজ নিয়ে জানা যায়, এই দুই নেতা হলেন  উপজেলা বিএনপির সভাপতি শওকতুল ইসলাম শকু ও যুব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুহিত বাবলু। অডিও কলে তিনি হাসপাতালে ভর্তির কথা উল্ল্যেখ করেন,  সুত্র থেকে জানা যায়,  আটকের পর মুন্নার শারিরীক সমস্যার কারনে প্রথমে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়।

এদিকে মুন্নার সেই অডিও কলের সুত্র ধরে কুলাউড়া বিএনপির কয়েকজন ও স্হানীয় কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাজ্জাদুর রহমান মুন্নার পক্ষে একটি সভা ও মিছিলের জন্য ৮ লাখ টাকা দেয়া হয় শুধু মাত্র তাকে ছাত্রদলের তকমা লাগানোর জন্য। এখানেই শেষ নয়, শওকতুল ইসলাম শকুর আগামী সংসদ নির্বাচনের খরচ বাবদ মোটা অংকের টাকা অফার করা হয়।

এদিকে মুন্না গত ১৪ অক্টোবর সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা (নং-৪৪০/২০২৪) দায়ের করেন সেখানে তিনি উল্ল্যেখ করেন প্রবাসী। এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, তখন কেন তার পক্ষে বিএনপি বা ছাত্রদল কোন সভা করেনি!!

তখন কেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি শওকতুল ইসলাম শকু ও যুব বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মুহিত বাবলু নীরব ছিলেন? ঐ ঘটনায় মুন্না কুলাউড়ার একটি অভিজাত রেষ্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করলেও একটিবার নিজেকে ছাত্রদলের  আহবায়ক বলে দাবী করেননি!

সাজ্জাদুর রহমান মুন্নার এলাকা সুত্রে জানা যায়,  সে এলাকার কিছু বিএনপি নেতাদের টাকা দিয়ে তার পক্ষে সভা করার জন্য প্রস্তাব দেয়। এবং এ কাজে ভুমিকা পালন করেন মুন্নার ভগ্নিপতি সারোয়ার খান। সরোয়ার মুন্না আটকের পরদিন ৮ লাখ টাকা নিয়ে কুলাউড়া যান।

এবং সেই টাকা বিএনপি নেতার হাতে তুলে দেন বলেও সুত্র নিশ্চিত করেছে। সুত্র থেকে জানা যায়, চতুর মুন্না মামলা থেকে বাচার জন্য সর্ব প্রকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবার তিনি গনমাধ্যমকে কাজে লাগানোর জন্য টোপ ব্যবহার করছেন!

বর্তমানে মুন্নার ভগ্নিপতি সরোয়ার কয়েকটি গনমাধ্যমকে মুনার পক্ষে সংবাদ প্রচারের জন্য টাকা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছন। ইতিমধ্যে কয়েকটি গনমাধ্যমে তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কেউ বলছেন মুন্না যুবলীগ নেতা আবার কেউ বলছেন মুন্না ছাত্রদল, বিএনপির নেতা!

মুন্নার বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ, এর আগে সে চাদাবাজির অভিযোগে কারাবরন করে। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর তার উপর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, সিলেট নগরীর সোনারপাড়া আবাসিক এলাকায় নবারুন-২/এ বাসায় এসপি টাওয়ার-৩ নির্মাণ করছিলেন ভুমির মালিক কুলাউড়ার ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ এ কে এম নজরুল ইসলাম।

এতে জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে ফিনল্যান্ড প্রবাসী সাজ্জাদুর রহমান মুন্না প্রথমে সিলেটের এডিএম আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে সত্যতা না থাকায় এডিএম আদালত তার আবেদন খারিজ করে দিলে ২০২১ সালের ১৫ই নভেম্বর সিলেটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে পুনরায় মামলা করেন মুন্না।

ঐ মামলা ঘাটাঘাটি করে জানা যায়, তথ্য গোপন করে উচ্চ আদালতে মামলার করায় হাইকোর্টে শুনানী শেষে বাদি সাজ্জাদুর রহমান মুন্নাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

অপর দিকে ২০২১ সনের ১৬ ই সেপ্টেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালত, সিলেটে  মুন্না ও তার ভাই বেলালের উপর ২০ লাখ টাকার একটি চাদাবাজি মামলা দায়ের করেন সৈয়দ এ কে এম নজরুল ইসলাম যার নং- সি.আর মামলা নং- ২৭৬/২১ইং।

উক্ত মামলা মুন্না দীর্ঘদিন পলাতক তাকার পর ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর  সন্ধ্যায় শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেঞ্চুগঞ্জ থানাধীন ফেঞ্চুগঞ্জ ব্রিজের উপর হইতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর মুন্না কারাবরন করেন। ঐ মামলায় তার ভাই বেলাল এখনও পলাতক।

এছাড়াও মুন্নার বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ পাচার, মানব পাচার ওনারী কেলেংকারিসহ নানা অভিযোগের তথ্য বিভিন্ন সুত্রের জানা যায় বর্তমানে যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুর রহমান মুন্নাকে নিয়ে যে খেলা শুরু হয়েছে তাতে আসলেই তিনি কার আওয়ামিলীগ নাকি বিএনপির এ নিয়ে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্ল্যেখ্য, গত  ৩০ অক্টোবর রাতে শিবগঞ্জ সোনাপাড়ার নিজের (নবারুণ-২) বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় দণ্ডবিধির ১৪৮/১৪৯/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/১১৪/৩৪ পেনালকোড ১৮৬০তৎসহ ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক উপাদানবলী আইনের ৩/৪ ধারায় এ মামলা রয়েছে মামলা নং- মামলা নং ০৬ (০৯)২০২৪)। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!