সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেটে বেড়েছে ছি/ন/তা/ই, কেউই নিরাপদ নন সিলেট অ/প/হ/র/ণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের ১০ সদস্য আ*ট*ক চুনারুঘাটে ধরা পড়ল ‘বহুরূপী’ প্রতারক ও ধ র্ষ ক মৌলভীবাজার জেলায় নূরীয়া মিশন এর পক্ষ থেকে ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র আয়োজনে রামাদান ফুড প্যাকেজ বিতরন এতিম শিশুদের নিয়ে ইফতার করলো শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেট’ তাহিরপুর পুলিশের অভিযানে ১ পুরিয়া গাঁজা জব্দ, যুবককে মাদক কারবারি সাজিয়ে মামলা! হাদি হ/ত্যা/র আসামী ফয়সাল ও আলমগীরকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু সিলেটে বার্টন, ইজি, মিলান, হিদায়াহ, ক্লাবহাউসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরিমানা সিলেটে নকল স্বর্ণ বিক্রির অভিযোগে আ ট ক ১ মুশফিকুল ফজল আনসারীসহ ৫ রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার

চুনারুঘাটে ধরা পড়ল ‘বহুরূপী’ প্রতারক ও ধ র্ষ ক

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বাহুবল ও চুনারুঘাটে মানবাধিকার সংগঠনের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে অসহায় নারীদের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং পর্নোগ্রাফি চক্রের মূল হোতা কথিত মানবাধিকার নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৯। রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় র‍্যাব-৯ এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারকৃত নুরুল হক বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের লাকুড়ীপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের পুত্র। তিনি নিজেকে ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’র সিলেট বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।

মানবাধিকার ও এনজিওর আড়ালে ‘পাসবিকতা: মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরুল হক ‘দরিদ্র কল্যাণ সংস্থা’ ও ‘মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা’ নামের দুটির নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এক ভয়াবহ অনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। অসহায়, দরিদ্র পরিবারের কিশোরী, তরুণী এবং স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি তাদের লন্ডনে পাঠানোর প্রলোভন দেখাতেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুক্তভোগীদের ফোন-সেক্স ও ধর্ষণে বাধ্য করতেন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময় গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সেগুলো বিদেশে পাচার করার এক রোমহর্ষক চিত্রও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, চুনারুঘাট উপজেলার এক তরুণী বছরখানেক আগে নুরুল হকের সংস্থায় অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই নুরুল হক তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মহাশয়ের বাজারের তার কার্যালয়ের ভেতরেই তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ধর্ষণের সময় নুরুল হক কৌশলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টানা পাঁচ মাস তাকে জিম্মি করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

লোমহর্ষক অভিযোগে ওই তরুণী জানান, তাকে অচেতন নাশক ওষুধ খাইয়ে নুরুল হকের বন্ধু ও প্রবাসীদের হাতেও তুলে দেওয়া হতো। সম্প্রতি তিনি চাকরি ছেড়ে দিলে সেই আপত্তিকর ভিডিওগুলো বিদেশে থাকা বন্ধুদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একাধিক ভুক্তভোগী ও ব্ল্যাকমেইল: অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু একজন নয়, ওই প্রতিষ্ঠানের আরও একাধিক নারী কর্মী একই লালসার শিকার হয়েছেন। চুনারুঘাট ও বাহুবলের আরও দুই তরুণী একইভাবে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রভাবশালী চক্রের ভয় এবং সামাজিক লোকলজ্জার কারণে এতদিন তারা মুখ খোলার সাহস পাননি।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাশিদা নামে এক শিক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুল হক নিজেকে কখনো এনজিও কর্মকর্তা, কখনো মানবাধিকার নেতা, আবার কখনো গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১৪ সালে হবিগঞ্জ সদরের বাতাশর এলাকায় বিলাসবহুল অফিস নিয়ে তিনি তার এই ‘প্রতারণার রাজ্য’ শুরু করেছিলেন।

তৎকালীন কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে ‘মানবাধিকার কার্ড’ বিলি করে তাদের ছত্রচ্ছায়ায় তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতেন। তার আয়ের অন্যতম উৎস ছিল সাধারণ মানুষের চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার বা কল লিস্ট বের করে দেওয়ার নাম করে অবৈধ তথ্য সংগ্রহ এবং মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া।  

ভিডিও ভাইরাল ও জনরোষ: সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায়- ১৬ বছরের এক কিশোরীকে লন্ডনে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে নুরুল হক যৌন হয়রানি করছেন। ভিডিওতে তাকে ইমোর মাধ্যমে জনৈক এক প্রবাসীর সাথে ওই কিশোরীকে ‘ফোন সেক্স’ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও র‍্যাবের তৎপরতা : বাহুবল মডেল থানায় ভুক্তভোগী ৪ তরুণী মামলা দায়ের করলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মামলায় মূল অভিযুক্ত নুরুল হকসহ তার সহযোগী ওসমানীনগরের আবুল বশর (মামুন বখত) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মো: সাজ্জাদ হোসেন জানান: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৯ এর একটি আভিযানিক দল চুনারুঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রধান অভিযুক্ত নুরুল হককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সে মানবাধিকার সংস্থার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসহায় নারীদের জিম্মি করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বাহুবল মডেল থানায় ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করেছিলেন এবং সে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিল।

অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব সদা তৎপর। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাহুবল মডেল থানার ওসি মো: সাইফুল ইসলাম জানান, মামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক থাকা অবস্থায় র‍্যাবের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় । এখন তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!