নারী কেবলই একটি স্বত্তা নয়, নারীকে তার জন্মগত অধিকারসমূহ সমুন্নত রাখার নিশ্চয়তা প্রথমেই পরিবারকে বহন করতে হয়। একটি কন্যা শিশু স্বভাবত বাবার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করে।
শৈশবের দুরন্তপনা এবং কৈশোর সময়ের জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে যৌবনে বিয়ে প্রথার নিয়মে আবদ্ধ হয়ে স্বামীর বাড়িতে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। অর্থাৎ একজন নারীর বাবার বাড়ি ও স্বামীর বাড়ি থাকে এবং বাস্তব সত্য এই যে, নারীর নিজের কোনো বাড়ি নেই।
এরই সাথে ঐ নারী যদি পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যুগোপযোগী শিক্ষা না থাকে নারীকে তার জীবনের প্রতিটি স্তরে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এক ভয়াবহ সংগ্রামের পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। নারীর জীবনে শুরু হয় অমর্যাদা , বঞ্চনা, অবহেলা ও অমানুষিক অত্যাচার।
এক পর্যায়ে বহু নারী মানিয়ে নেয় কেবলই মৌলিক চাহিদা ও সামাজিক নিরাপত্তা জনিত কারণে। কিন্তু যে নারী মেনে নিতে বা মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়, তাদের একটি অংশ আত্মহননের পথ বেচে নেয় কারণ নারী স্বত্তা ও তার জীবনের গুরুত্ব সামাজিক ও পারিবারিক অনিয়মের কাছে একেবারেই নগণ্য ও মূল্যহীন হয়ে পড়ে, তৎপ্রেক্ষিতে বিচারের বণীও নির্ভৃতে কাঁদে (!)কারণ আকাশের লক্ষ কোটি তারার মাঝে কখন কোথায় কোন তারা ঝরে গেল, আকাশ কি মনে রাখে?
নারী শিক্ষা ও নারী অধিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবী। নবাগত কন্যা শিশুর জন্মের পর থেকে তার অধিকার, পরিবারের দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ, মেয়ে শিশুর শিক্ষা ব্যবস্থায় বাধ্যবাধকতা, বেড়ে উঠার নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একজন পূর্ণ বয়স্ক নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোপরি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের সহযোগিতা আবশ্যিক।
ফলশ্রুতিতে একজন স্বনির্ভর শিক্ষিত নারী তার আত্মমর্যদা বজায় রেখে রাষ্ট্রে, সমাজে ও পরিবারে নিজের অবদানটুকু রাখতে পারবে। নারী হবে না কারো বোঝা, নারী হবে আত্মমর্যাদাশীল এক স্বত্তা, নারীর ও থাকবে নিজের জন্যে এক টুকরো নিরাপদ আবাসস্থল, সম্মানের সাথে দু’মুঠো আহারের যোগাড়, নারীরও থাকবে সম্পূর্ণ নিজের আত্মনির্ভর পরিচিতি।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে “আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” প্রতিপাদ্য ধারণপূর্বক এগিয়ে যাবে পৃথিবীর সকল নারী, এ প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পৃথিবীর সকল নারীকে জানাই শুভেচ্ছা। লেখক : অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর ও প্রশাসন), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিলেট