আসছে রেজা রুবেলের কথোপকথনের কল লিষ্ট
২০২৪ সালের ৪ আগষ্ট সিলেট নগরীতে যুবলীগের সশস্ত্র মিছিলে অংশ নেয়া আনেয়ারুজ্জামানের ব্যাক্তিগত ফটোগ্রাফার, ১০/১২ টি মামলার পলাতক আসামী সাজলু লস্করের অনলাইন পোর্টাল সিলেট প্রতিদিনে কর্মরত আওয়ামিলীগের ধোসর রেজা রুবেল এখনও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সহযোগী সদস্য পদে বহাল রয়েছেন।
এছাড়াও রেজা রুবেল সম্প্রতি সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আজিজের উপর হামলার ৭ নং আসামী।
তার বিরুদ্ধে গত ৪ আগষ্ট সরাসরি ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্হান নেয়ার মিছিলের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের পরও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে স্বপদে বহাল থাকার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এদিকে রেজা রুবেলকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে বহাল রাখা নিয়েও তৈরী হয়েছে গুঞ্জন। অনেকে এ বিষয়টিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের রক্তের সাথে বেঈমানি বলে সিলেট জেলা প্রসক্লাবের দিকে আঙ্গুল তুলছেন।
মিছিলের ভিডিও এখানে ক্লিক করে দেখুন
এর আগেও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে আওয়ামিলীগের হয়ে কাজ করার অনেক অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সরাসরি আওয়ামিলীগের হয়ে কাজ করেছিলেন।
এমন কি সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ গত ৪ আগষ্ট ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে হামলার আহবান জানান। যার কারনে তিনি মামলার আসামী হয়ে বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
সুত্র বলছে বর্তমানে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সেই পুরনো রাস্তায় হাটছে। তাদেরই সদস্য আওয়ামিলীগের ধোসর রেজা রুবেলের বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
কে এই রেজা রুবেল:- যতটুকু জানা গেছে রেজা রুবেলের বাড়ি সিলেটের বাইরে। তিনি প্রকৃতপক্ষে সিলেটের বাসিন্দা না হয়েও সিলেটের স্হানীদের উপর ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। ৫ আগষ্টের পুর্বে সে ছাত্র-জনতার উপর পুলিশ দিয়ে চালায় নির্যাতন।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, রেজা রুবেল ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলে আনোয়ারজ্জামানের পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্টান থেকে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা।
বিভিন্ন হুমকি ধামকি আর সাংবাদিকের তকমা ব্যবহার করে নিজেকে বানিয়েছেন সমাজের একজন সম্মানি ব্যাক্তি অথচ তার চরিত্র তিনি ফ্যাসিবাদীদের ধোসর ছাড়া কিছুই না।
হাসিনা সরকার পতিত হওয়ার পর রেজা রুবেলসহ আওয়ামিলীগের ধোসরদের রুজি রুটিতে ভাটা পড়ে। সে জন্যই এসব ধোসররা আওয়ামিলীগের হয়ে কাজ করছে। তাদের টার্গেট একটাই বিএনপি জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধীদের সাথে থেকে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
আরিফকে অব্যাহতি, রেজা রুবেল বহাল:- সম্প্রতি সাংবাদিক এ এইচ আরিফকে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার বিরুদ্ধে সু নির্দিষ্ট কোন অভিযোগ না থাকার পরও তাকে এই অব্যাহতি দেয়া হয়।
তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠিকে খুশি করতে এই অব্যাহতির নাটক মঞ্চস্হ করা হয়েছে। মুলত ঐ সংগঠন বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছে। তবে প্রেসক্লাব বলছে আরিফ সংগঠন বিরোধী কাজে জড়িত।
কিন্ত সেটা কি তা স্পষ্ট উল্ল্যেখ না করেই থাকে অব্যাহতি এবং কারন দর্শানোর নোটিশ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা। সুত্র থেকে জানা যায়, আরিফ তার প্রতি এমন আচরনের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিবেন।
এদিকে রেজা রুবেলের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্হান নেয়ার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও সিলেট জেলা প্রেসক্লাব থেকে তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বিএনপি জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মাঝে মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। তারা এটাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো বলে দাবী করছেন।
রেজা রুবেলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:- এদিকে রেজা রুবেলের বিরুদ্ধে দিন দিন অভিযোগ পাহাড় সমান হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে গত ৪ আগষ্ট আন্দোলনের সময় নীরিহ ছাত্র জনতার বাসায় বাসায় পুলিশ নিয়ে আটক ও নির্য়াতনের অভিযোগের লিষ্ট দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
ইতিমধ্যে কয়েকজন নির্যাযিত ছাত্র জানান, এই রেজা রুবেল দিনের বেলা আওামিলীগের দালালি করত আর রাতের বেলা প্রশাসনের সাথে থেকে ছাত্রদল, জামায়াত শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের বাসায় হানা দিত।
তার সাথে সাংবাদিক তুরাব হত্যা মামলার আসামী আজবাহার শেখের সাথে সু-সম্পর্ক ছিল। আনোয়ারুজ্জামানে বদৌলতে সে এই আজবাহার শেখের সাথে সম্পর্ক গভীর ছিল।
সে প্রতিদিন আজাবাহারকে তথ্য দিয়ে গ্রেফতারে সহযোগীতা করত। গ্রেফতারের পর থানায় গিয়ে ছাড়িয়ে নেয়ার দরদাম করত। সুত্র বলছে রেজা রুবেলের কল লিষ্ট তাল্লাশী করলে সব কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে।
রেজা রুবেলের কক্সবাজার মিশন? রেজা রুবেলের বিশ্বস্হ কয়েকজন বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রেজা রুবেলের সাথে এখনও যুবলীগ ক্যাডারদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এমন কি কয়েকজন ক্যাডার কক্সবাজারের বিভিন্ন স্হানে অবস্হান করছেন।
তাদের সাথে যোগাযোগ করা এবং তাদেরকে আর্থিক সাহায্য পৌছে দেয়ার জন্য রেজা রুবেল কয়েকদিন পর পর কক্সবাজার পাড়ি জমান। আর এসব অর্থ আাসে পলাতক আনেয়ারুজ্জামানের কাছ থেকে।
সুত্রের দাবী গত ৪ আগষ্টের পর রেজা রুবেলের কল লিষ্ট তল্লাশী করলে তার সব কিছু বের হয়ে আসবে। পলাতক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের সাথেও রয়েছে রেজা রুবেলের যোগাযোগ। লন্ডন বসে সিলেটে বিভিন্নভাবে উস্কানি দেয়ার জন্য রেজা রুবেলের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে পলাতক মেয়র আনেয়ারুজ্জামানের।
কুকর্ম ঢাকতে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার:- রেজা রুবেল বর্তমানে তার কুকর্ম ঢাকতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করছে। আর তাকে সাপোর্ট করছে আওয়ামিলীগের ধোসররা।
সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে ঘাপটি মেরে বসে থাকা গুটি কয়েক আওয়ামিলীগের ধোসররা খোলস পাল্টিয়ে বিএনপি জামায়াতের পক্ষের হয়ে নাটক করছে।
মুলত এরাই সিলেট জেলা প্রেসক্লাবেকে পুজি করে বিএনপি জামায়াতের বিপক্ষে অবস্হান নিয়ে সুকৌশলে আওয়ামিলীগের পক্ষে কাজ করছে। সুত্র বলছে গোয়েন্দা নজরদারী করলে এসব ফ্যাসিবাদীদের আসল রুপ বের হয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি ৪ আগষ্ট যুবলীগের মিছিলে রেজা রুবেলের অংশ গ্রহন সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।
মিছিলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ রয়েছে বলে জানালে তিনি বলেন, রেজা রুবেল একটা প্রতিষ্টানের সাথে জড়িত, তাকে প্রতিষ্টানের কর্তৃপক্ষ যদি বলে কোন জায়গায় যাওয়ার জন্য তাহলে সে যাবে। হয়ত সেভাবে সে মিছিলে অংশ নিয়েছে।