সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবহির্ভূত নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় সাবেক উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার সিলেট মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রোকনুজ্জামান এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের সেরেস্তাদার কৃপাসিন্ধু দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, যোগ্যতা ও বয়স না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন না নিয়ে পদ সৃজন ও নিয়োগ, এবং একই পদে একাধিকবার অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ নবায়নসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক নিয়োগ করা হয়েছে।
মামলার নথি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নঈমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির প্রমাণ মেলে।
তদন্ত শেষে দুদক ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল সিলেটের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এই দুইজনসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
অভিযুক্তদের তালিকায় আছেন—ফাহিমা খানম চৌধুরী, অঞ্জন দেবনাথ, মাইদুল ইসলাম চৌধুরী, মো. গোলাম সরোয়ার, মো. বিলাল আহমদ চৌধুরী, শমসের রাসেল, গাজী মো. ফারাজ, আবদুল মুনিম, রিংকু দাস, আতিক শাহরিয়ার ধ্রুব, খালেদা চৌধুরী, আশরাফুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌসী, চৌধুরী রোম্মান আহমদ, সাজু ইবনে হান্নান খান, বেলাল উদ্দিন, লোকমান আহমেদ, চৌধুরী জুলফিকার খালেদ, মো. মোশারফ হোসেন, হালিমা বেগম, সুরঞ্জিত চন্দ্র তালুকদারসহ আরও অনেকে।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই, সিন্ডিকেট ও ইউজিসির অনুমোদন উপেক্ষা করে বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ দেন।
এসব নিয়োগ ছিল পুরোপুরি অস্থায়ী ভিত্তিতে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী চাকরি স্থায়ী না করে একাধিকবার মেয়াদ বাড়ানো হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১২(১০) উপধারা অনুযায়ী উপাচার্য ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক নিয়োগ দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে আরও ছয় মাস পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আইন লঙ্ঘন করে বারবার একই ব্যক্তিদের নিয়োগ নবায়ন করা হয়েছে এবং এ কাজে সহায়তা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার।
এছাড়া ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩৯ জন কর্মরত থাকলেও ইউজিসি অনুমোদন দিয়েছে মাত্র ১১২টি পদে।
এর মধ্যে ৯৮ জন নিয়োগপ্রাপ্ত। বাকি ১৪১ জনকে ইউজিসি কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন ছাড়াই নিয়োগ দিয়ে তাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন থেকে।
২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেওয়া নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৪৬ জনের বয়স সংক্রান্ত যোগ্যতা ছিল না। বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ১৮ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
এমনকি তৃতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ চারজন, প্রয়োজনীয় ডিগ্রি না থাকা দুজনও নিয়োগ পেয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়োগের পাশাপাশি অবৈধভাবে পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।