মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা চীনের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর নামে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ : যুবক গ্রে ফ তা র সিলেট থেকে রোহিঙ্গা যুবক আ ট ক সিলামে সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক নি হ ত দোয়ারাবাজারে প্রবাসীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা সিলেটে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ও এতিমদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিএমবিএফ সিলেট বিভাগীয় কমিটির শপথ গ্রহণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে সিলেট ইয়াংস্টার : কয়েস লোদী তাহিরপুরে কয়লা চুরি ও ই/য়া/বা ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীকে হ ত্যা চে ষ্টা : ৯ জনের নামে মামলা দায়ের বৃটেনের নিউপোর্ট কেল্টিক টাইগার্স স্পোর্টস ক্লাবের আয়োজনে ইফতার পার্টি সম্পন্ন

সেতু নেই, ভেলা-ই তাদের একমাত্র ভরসা!

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮১ বার পড়া হয়েছে

নেতারা আসেন-দেখেন প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়না কেউ কথা রাখেনি। বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। একটা সেতু হলে বই খাতা নিয়ে আতঙ্ক ছাড়া স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারতাম।’ এমন কথা বললো মৌলিনগর গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনসুরা বেগম। মৌলিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান, আয়েশা আক্তারসহ অনেকে ভেলায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। 

প্রায় ১০০ মিটার চওড়া আনোয়ারা নদীর কারণে সুনামগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের মৌলিনগর গ্রামটি দুইভাগে বিভক্ত। হেমন্তে ৫০ মিটার ও বর্ষায় ১০০ মিটার চওড়া হয় নদী। বর্ষায় এই নদীতে পানি থৈ থৈ করে। নদীর দুইপাশে রাস্তা থাকলেও এই নদীতে ব্রিজ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর। গত প্রায় ১ দশক ধরে মৌলিনগর গ্রামের পথচারী, শিক্ষার্থী ভেলায় চড়ে আনোয়ারা নদী পার হতে হয়। এতে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী ও বয়স্করা। 

গ্রামবাসী জানায়, আনোয়ারা নদীর পশ্চিমপাশে আছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, আটগাঁও মাহমুদপুর মাদ্রাসা, মাহমুদপুর গ্রামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লালবাজার সহ একটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। পূর্বপাশে নোয়াগাঁও অষ্টগ্রাম মাদ্রাসা, মৌলিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নোয়াগাঁও বাজার। বেশ কযেক বছর শিক্ষার্থী ও পথচারীরা নৌকায় পাড় হতো। কিন্তু নৌকা সব সময় পাওয়া যায় না। একারণে শিক্ষার্থীরা প্রায় ৮ বছর যাবৎ ভেলায় পাড় হচ্ছে।

৬ টি প্লাস্টিকের ড্রামের উপর তক্তা দিয়ে ভেলা বানানো হয়। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্লাস্টিকের ৬ টি ড্রাম চারকোণা করে বেঁধে উপরে তক্তা দিয়ে পাটাতন বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ভেলা। ভেলার দুইপাশে দুইটি লম্বা রশি আড়াআড়ি ভাবে খুঁটির সাথে বাঁধা। শিক্ষার্থী ও পথচারীরা বেলায় উঠে নিজেরাই রশি টেনে একপাড় থেকে অন্য পাড়ে পারাপার হচ্ছেন। সেখানকার বাসিন্দারা লালবাজার হয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয় ভেলায় আনোয়ারা নদী পাড় হয়ে। প্রায় ৩০০০ জনসংখ্যার বড় এই মৌলিনগর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আনোয়ারা নদী পেরিয়ে বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়।

হেমন্তে সুপেয় পানির অভাবে মহিলারা ভেলায় পাড় হয়ে পূর্বপাড় যেতে হয় পানি আনতে।  নোয়াগাঁও অষ্টগ্রাম মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তানিয়া বেগম বলেন, আমি সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা এই ভেলায় চড়ে বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসায় আসা যাওয়া করতে হয়। বৃষ্টি কিংবা ঝড়ে ভেলায় পারাপার হওয়ার সময় আতঙ্কে থাকি। অনেক সময় বৃষ্টি আসলে শিক্ষার্থীদের বই, খাতা ভিজে যায়।

বর্ষাকালে বেশি বেশি দুর্ঘটনা হয় জানি তিনি বলেন, এখানে একটা ব্রিজ হলে দুর্ভোগ কমে যেতো। মৌলিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, এই আনোয়ারা নদীটি গজারিয়া স্লুইসগেট থেকে কোড়াইল্লা হাওর হয়ে বলাহর ও উজ্জলপুর হয়ে সুরমার সাথে সংযোগ ছিল। বর্তমানে বছরের পর বছর পলি পড়ে নদীর রূপ পরিবর্তন হয়ে এখন মরা নদীতে রূপ নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ড্রামের ভেলা করে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর থেকে গত কয়েক বছর যাবৎ মৌলিনগর গ্রামবাসি চাঁদা তুলে ভেলা তৈরি করে পারাপার হচ্ছি। প্রাথমিক, মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে পান হতে হচ্ছে। এছাড়াও শত শত পথচারী পারাপার হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের বেলায় পাড়াপাড় নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। তাদের কথা চিন্তা করে এই আনোয়ারা নদীতে একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

মৌলিনগর গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি মো. বরকত মিয়া (৭০) জানান, বহু বছর যাবৎ শুনে আসছি আনোয়ারা নদীতে একটি ব্রিজ হবে, কিন্তু কিছুই তো হচ্ছে না। উপায় না দেখে বাচ্চাদের পাড়াপাড়ের জন্য গ্রামবাসী মিলে ড্রামে বেলা বানাইয়া দিছি। এই বেলায় এখন গ্রামের সবাই পারাপার হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নেছার আহমদ জানান, আনোয়ারা নদীর দুইপাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।

পারাপারে ভোগান্তি লাঘবে আনোয়ারা নদীর উপর একটি বেইলি ব্রিজ কিংবা সেতু নির্মাণ হলে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের নিরাপদ যোগাযোগের ব্যবস্থা হতো। ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. আখতারুজ্জামান তালুকদার জানান, আনোয়ারা মরা নদীতে অনুর্ধ্ব ১০০ মিটারের একটি ব্রিজ উপজেলা পরিষদের (এলজিইডির) মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ব্রিজটি চালু হলে নোয়াগাঁও, লালবাজার হয়ে উপজেলা ও জেলা সদরের সাথে যাতায়াতের পথ সুগম হবে এবং ভীমখালী ইউনিয়নসহ উপজেলার সকল লোকজনের দ্রুততম সময় ও কম খরচে জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে।

আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের পথ সুগম করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সানোয়ার হোসেন জানান, অনুর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজের প্রস্তাবণা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়ে আসলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজটি করা হবে। সুত্র:- সুনামগঞ্জের খবর

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!