সুনামগঞ্জে মশার কয়েল থেকে আগুন ছড়িয়ে এক নারী দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। মৃত মহিলার নাম সালেমা খাতুন (৬৮), তিনি ওই গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতের মরদেহ উদ্ধার করেছে। বুধবার ভোররাতে সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমিরপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের পরিবারের লোকজন প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। নজরুল ইসলাম বাড়ির পাশে অন্য জায়গায় ঘুমাচ্ছিলেন। তার স্ত্রী সালেমা খাতুন একা একটি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাড়িতে থাকা ছোট ছেলে অন্য রুমে ঘুমিয়ে ছিল।
গভীর রাতে মশার কয়েলের আগুন থেকে খাটে আগুন লেগে পুড়ে সালেমা খাতুন মারা যান। প্রতিবেশী মারফত আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম বলেন, সেহরি রান্নার জন্য সজাগ হলে দেখি নজরুল ইসলামের ঘর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে তাদেরকে ডেকে সজাগ করি। গ্রামের মানুষ মিলে আগুন নিভিয়েছে। আগুনে পুড়ে ঘুমের মধ্যেই ছালেমা খাতুন মারা গেছে।
নিহত ছালেমা খাতুনের স্বামী নজরুল ইসলাম বলেন, আমি রাতে অন্য জায়গায় ছিলাম। খবর পেয়ে এসে দেখি ঘরের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া। পানি ও বালি দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। খাট বিছানা আগুনে পুড়ে গেছে এবং আমার স্ত্রীও মারা গেছে। তার শরীরের অনেক জায়গায় পুড়ে গেছে।
ছেলে জানিয়েছে মশার কয়েল জ্বালানি সে ঘুমিয়েছিল। কয়েল থেকেই আগুন লেগেছে। সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আফসান পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে রাতেই আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আগুনে পুড়ে ঘরের ভেতরেই মহিলা মারা গেছেন। পরে পুলিশকে ঘটনা অবগত করি।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভোরে মহিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মশার কয়েলের আগুন থেকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা গেছে। আগুন পুড়ে মহিলা শরীর অঙ্গার হয়ে গেছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।