ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনেই ভরাডুবি হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর। কোনো আসন পায়নি তারা। তবে তাদের জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সিলেট বিভাগের চার জেলা প্রকাশসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সিলেট জেলায় ৫টি বিএনপি, খেলাফত ১:- সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। আর একটিতে জিতেছেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ২ টার দিকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম নিজ কার্যালয়ে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সিলেট-১ আসনে বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর পেয়েছেন ১লাখ ৭৬ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামের মাওলানা হাবীবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯ ভোট। এছাড়া গণ অধিকার পরিষদের আকমল হোসেন ৩১৪ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মাহমুদুল হাসান ২ হাজার ৭০১ ভোট, বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল ১ হাজার ১১৩ ভোট, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন ৯০৮ ভোট, ও বাসদ (মার্কসবাদী) সঞ্জয় কান্তি দাস পেয়েছেন ৮০১ ভোট।
সিলেট-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির তাহসীনা রুশদির লুনা পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি খেলাফত মজলিসের মুনতাসির আলী পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৩৫ ভোট।
সিলেট-৩ আসনে বিজয়ী বিএনপির এমএ মালিক পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।
সিলেট-৪ আসনে বিজয়ী বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত ইসলামের জয়নাল আবেদিন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।
সিলেট-৫ আসনে বিজয়ী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি আবুল হাসান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে ইসলামের উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী মামুনুর রশিদ চাকসু মামুন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট।
সিলেট-৬ আসনে বিজয়ী বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ১০৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ১ লাখ ১ হাজার ৫৫৯ ভোট।
সুনামগঞ্জে নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির:- সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বিএনপি। ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জমান কামরুল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭১ হাজার ১৫৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে কামরুজ্জমান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬১ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪০৬ ভোট।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই -শাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। ১১১টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। মোট ১৪৭ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ৯৬ হাজার ৬৬৬। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতিকে পেয়েছেন ৪১ হাজার ৯৮৪ ভোট।
সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল। নিকটতম রয়েছেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রতিকের নিয়ে মো. সামছ উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনবিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মিলন ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৯২৮ ভোট।
মৌলভীবাজারের চারটি আসনই বিএনপির দখলে:- মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তাদের তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও একটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলার আসনগুলোর প্রাপ্ত ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মৌলভীবাজার-১ আসেনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৩টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৪৯২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৭ হাজার ৬১০ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১০৩টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মো. শওকতুল ইসলাম শকু ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সায়েদ আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৫৩ হাজার ৯৭ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৩ রাজনগর ও সদর উপজেলা সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৭৫টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী নাসের রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল মন্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৫ হাজার ৩৯৭ ভোট পেয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) সংসদীয় আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৩টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মুজিবুর রহমান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ নূরে আলম হামিদী রিকশা প্রতীকে ৪৯ হাজার ১৮৯ ভোট পেয়েছেন।
হবিগঞ্জের সবকটিতে বিএনপির জয়:- হবিগঞ্জ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ১ লাখ ১১ হাজার ৯৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ২৪৫ ভোট। ভোটের শতকরা হার ৪৬ দশমিক ৮ ভাগ।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের দেয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৭৬২ ভোট। ভোটের শতকরা হার ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউস ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৫৬৮ ভোট। ভোটের শতকরা হার ৫১ দশমিক ১২ শতাংশ।
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৩২৩ ভোট। ভোটের শতকরা হার ৫৬ দশমিক ১০ শতাংশ।