শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন

সিলেটে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি, প্রশাসন নীরব

শাকিলা ববি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

সিলেট নগরজুড়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি চলছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কেউ সাঁটিয়েছেন রঙিন ব্যানার, বিলবোর্ড, কেউ আবার অপচনশীল পিভিসি প্লাস্টিক দিয়ে করেছেন ব্যানার, বিলবোর্ড। বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি, টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজকের বেড়া, ব্রিজ, যানবাহন সর্বত্রই সাঁটানো হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারের আগে থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন শুরু হলে আনুষ্ঠানিক প্রচারের তারিখ ঘোষণার পর এসব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নগরীজুড়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব চিত্র নজরে আসছে না নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। ভোটের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, সিলেটে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা।

গত ২২ জানুয়ারি প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়। তবে তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষার আগেই প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার প্রচারনা শুরু করেন। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। অপচনশীল দ্রব্য (যেমন-রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদানে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাইবে না।

কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্যকোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহে, এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিক্সা, অটোরিক্সা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিটেক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাতে পারবেন না।

ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ, এবং প্লাস্টিক (পিভিসি) ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। শনিবার সরজমিনে সিলেট- ১ আসন ঘুরে দেখা যায়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড টানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। তিনি সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, শাহী ঈদগা, ওসমানী মেডিকেলসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায়, ফুটওভার ব্রিজের উপর রঙিন পিভিসি বড় বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরীর প্রায় সব গুরুত্ত্বপূর্ণ জায়গায় পিভিসি ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশার মাঝেও রঙিন পোস্টার সাাঁটিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নগরজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি, টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজকের বেড়া, গাছের মধ্যে ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক বিভাজকের বেড়ায় পিভিসি ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। এছাড়া সিলেট-১ আসনের প্রায় সব প্রার্থীই ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সাঁটানের ক্ষেত্রে নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় রয়েছে, আচরণ বিধি অমান্য করলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। রয়েছে শাস্তির বিধানও।

নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসার শাস্তি বা জরিমানার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ইসির কড়া নির্দেশনা থাকলেও সিলেটের স্থানীয় প্রশাসন প্রার্থীদের এসব আচরণবিধি লঙ্ঘন আমলে নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সিলেট জেলার সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, ঘর থেকে বের হলেই সিলেট নগরীর যে কোনো সাধারণ মানুষের ছোখে পড়ে প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘন।

কোনো প্রার্থী রঙিন বিলবোর্ড, কেউ আকার পিভিসি ব্যানার, বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। নগরীর গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজক, যানবাহন সর্বত্র প্রার্থীরা বিধি লঙ্ঘন করে প্রচার প্রচারণা করছেন। কিন্তু এসব কারণে আজ পর্যন্ত সিলেট-১ আসনের কোনো প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশন শোকজ করেছে বলে আমি শুনিনি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠ প্রশাসনের দায়িত্বে যারা আছেন তারা মনে হয় কেউ দপ্তর থেকে বের হন না। যদি তারা দপ্তর থেকে বের হতেন তাহলে যে এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আছে সে এলাকাতেই করা প্রার্থীদের অনেক আচরণবিধি লঙ্ঘন দেখতে পারতেন। তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের মত বিষয়ে যদি নির্বাচন কমিশন নিরব ভূমিকা পালন করে তাহলে নির্বাচনের দিন তারা কেমন ভূমিকা পালন করবেন সেটা যে কেউ আন্দাজ করতে পারবেন।

প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনে প্রশানের এমন নিরব ভূমিকা অবশ্যই জনমনে নির্বাচন নিয়ে বিরুপ প্রতিক্রিয়া ফেলবে। এ ব্যাপারে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিলেটের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষটি আমরা দেখছি না সেটা রির্টানিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) দেখছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট-১ আসনের সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা সাঈদা পারভীন বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারটা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন। তিনি এ বিষয়ে বলতে পারবেন। এ বিষয়ে কথা বলতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার মোবালে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!