সিলেট মহানগরীতে কোতোয়ালী মডেল থানার তাৎক্ষণিক অভিযানে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে চাকু,,কেচি, লোহার পাইপসহ মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে অপহৃত দুই ব্যক্তিকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৮ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার হাওয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে কোতোয়ালী পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন:- ১। গোটাটিকর এলাকার মোঃ সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), ২। বাসা নং-১৫, ব্লক-বি, রোড নং-১৫, শাহজালাল উপশহরের মোঃ মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), ৩। ৫৬, হাওয়াপাড়া এলাকার মোঃ ফয়জুল করিসের ছেলে জুবাইন আহমদ (১৯), ৪। মোহিনী-১০২/৩০, শিবগঞ্জ লামাপাড়ার আব্দুল মন্নানের ছেলে সুফিয়ান আহমদ (১৯), ৫। ৬৪/১, চৌকিদেখীর মোঃ আনোয়ার মিয়ার ছেলে মোঃ জাকির হোসেন (১৯), ৬। বিহঙ্গ-৭০, কাজীটুলার আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ মারজান (১৯), ৭। বর্ণী-৪২, হাউজিং স্টেট এলাকার মোঃ সুজন মিয়ার ছেলে মোসাদ্দেক আলী (১৮), ৮। দিশারী-৮১, হাওয়াপাড়ার রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), ৯। শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার মোঃ রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮), ১০। দিশারী-৪৪, হাওয়াপাড়ার মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।
পুলিশ জানায়, সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালী মডেল থানার তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে সুহেল সরকার (২২) নামে এক যুবককে ১৪-১৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে তাকে কোতোয়ালী থানাধীন তাঁতিপাড়ার নাজমা নিবাস নামের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে তাকে ধারালো চাকু ও কেচি দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি ও আদায় করা হয় এবং তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া তাকে কাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ।
পরে ভুক্তভোগী সুহেল সরকার বিষয়টি থানায় জানালে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের নির্দেশনায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। অভিযানে নাজমা নিবাসের দ্বিতীয় তলা থেকে ভিকটিমের শনাক্ত করা ১০ জনকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে তাদের হেফাজতে থাকা আরেক ভিকটিম জাহিদ আহমদ (৪২) নামের এক প্রবাসীকেও উদ্ধার করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভিকটিমদের দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত কেচি, চাকু ও লোহার রুল উদ্ধার করা হয়েছে। সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এক যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ১০জনকে আটক করা হয়। ২ জন ভিকটিমের ২টি মোবাইল সেট ও নগদ টাকা, ঘটনায় ব্যবহৃত কেচি, চাকু, লোহার রুল আসামীদের হেফাজত হইতে উদ্ধার করা হয়। উক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।