ঈদকে সামনে রেখে বর্ধিত নজরদারি এবং বিশেষ অভিযানের মধ্যেও সিলেট নগরীতে বেড়েছে ছিনতাইর ঘটনা। সাম্প্রতিক কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কিত নগরবাসী। তবে পুলিশ বলছে তাদের নজরদারি রয়েছে! এদিকে গত কয়েক মাসে সিলেট নগরীতে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও ছিনতাইকারিরা রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ সুযোগে বার বারই ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থাকার ফলে এসব ছিনতাইকারিদের সনাক্ত করলেও চেয়ার রক্ষায় আশায় পুলিশ গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে ছিনতাইকারিদের সনাক্ত করলেও বড় বাবুর ইশারায় এদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছেনা বলেও পুলিশের একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে। তবে উপর মহলের আদেশের অপেক্ষায় আছেন তারা। যে কোন সময় আসতে পারে গ্রেপ্তারের আদেশ।
এদিকে ছিনতাইকারিরা গ্রেপ্তার না হওয়াতে ভোর কিংবা রাতে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। সিলেট নগরীতে অফিসগামী যাত্রী, শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ পথচারী কেউই এখন পুরোপুরি নিরাপদ নন। পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ছিনতাই স্পট বা ‘হটস্পট’ রয়েছে সেই সাথে রয়েছে নিরিবিলি রাস্তা। যেখানে নিয়মিত ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
পুলিশের হিসাবে, সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনার মধ্যে প্রায় ১০০ শতাংশই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংঘটিত হচ্ছে। আর এসব ঘটনা ঘটছে সকালের দিকে। প্রায় প্রতিদিনই খবর পাওয়া যাচ্ছে নগরীর কোন না কোন এলাকায় ছিনতেইয়ের। এর মধ্যে কোন কোন ঘটনা পুলিশের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে আবার কোন কোন ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, ছিনতাইয়ের প্রকৃত সংখ্যা বেশি হতে পারে, কারণ অনেকেই এসব ঘটনায় মামলা করেন না, আবার অনেকে আইনি ঝামেলা এড়াতে ছিনতাইয়ের ঘটনাকে জিনিসপত্র হারানো গিয়েছে উল্লেখ করে সাধারণ ডায়ারি করেন। ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা না করায় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময় গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তরা সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসে হয়তবা এসব বিবেচনা করে অনেকেই মামলায় জড়াতে চাননা।
তবে ছিনতাইরোধে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ রয়েছে বলেও জানা যায়। নগরীর শাহজালার উপশহরে ছিনতাইয়ের শিকার ভুক্তভোগী এক মহিলা জানান, তিনি ভয়ে কাউকে জানাননি। তার কারন হিসেবে তিনি বলেন, ছিনতাইকারিরা ছিনতাই করে যাওয়ার সময় তাকে হুমকি দিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শমতে, ভোরবেলা বা গভীর রাতে যাতায়াতের সময় অন্ধকার বা নির্জন রাস্তা এড়িয়ে চলা উচিত। রিকশায় চলার সময় ব্যাগ কোলের ওপর রাখা এবং মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকা ভালো। অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ছিনতাইয়ের শিকার হলে বাধা না দিয়ে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সিলেটে চলতি বছর শুধু ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসেই ঘটে গেছে কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। এর মধ্যে ৭ ফেব্রুয়ারি উপশহর বি ব্লক টাওয়ারের নিচে, ১২ ফেব্রুয়ারি উপশহর এ-ব্লক সালাম ডাক্তারের বাসার সামনে, ১৯ ফেব্রুয়ারি হাতিমবাগ ১ নং রোডে, ২৩ ফেব্রুয়ারি হাউজিং এস্টেটে। ৬ মার্চ নগরীর আম্বরখানা বড়বাজারে. ৫ মার্চ সাগরদিঘিরপারে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৩/৪ টি ঘটনার ভুক্তভোগী আইনী জামেলায় জড়াতে চাননি। তাদের ভাষায় ছিনতাইকারিরা প্রভাবশালী দলের ছত্রছায়ায় এসব করছে। মামলা করে নিজেদের উপর বিপদ ঢেকে আনতে চাননা।
সিলেট নগরীতে উদ্বেগজনক হারে ছিনতাই ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, রাত এবং ভোর বেলায় চলাচল এখন ভয়ানক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা মনে করছেন, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। অপরদিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা বলছেন ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ছিনতাই প্রতিরোধে রাত্রীকালীন পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারী গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গেল এক মাসে সিলেট মহানগরীতে চুরির ঘটনা ঘটেছে ১৪টি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। এসব ঘটনায় মোট ৩৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭টি চুরি ও ১টি ছিনতাই, জালালাবাদ থানায় ১টি চুরি ও ২টি ছিনতাই, দক্ষিণ সুরমা থানায় ৩টি চুরি এবং শাহপরান থানায় ৩টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে সিলেটের আলোচিত সাগরদিঘিরপার ও হাউজিং এস্টেট এলাকায় ঘটে যাওয়া ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত কাউকে এখনও আটক করা হয়নি!