মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন

সংরক্ষিত ১১ নারী আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের গেজেট প্রকাশের পর সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়েছে। সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে জামায়াত ও তাদের জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এবং বণ্টনের কৌশল নিয়ে দলীয় ফোরামে তুমুল আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞ ও দলের শীর্ষ নেতারা মেধা, যোগ্যতা, সংগঠনের দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের বাছাই করবেন।

বর্তমান সংসদে আসনপ্রাপ্তির আনুপাতিক হারে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা পেতে পারে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য পেতে পারে ১৩টি আসন। এর মধ্যে জামায়াত এককভাবেই পাবে ১১টি। সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে। তবে সূত্রমতে, জামায়াত জোটের ১৩টি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাবেন যারা তাদের মেধা, যোগ্যতা, সংগঠনের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং অভিজ্ঞতার দিক বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। সেই সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আমল ও জুলাই যুদ্ধে তাদের ও তাদের পরিবারের ত্যাগকে বিশেষভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের একজন শীর্ষস্থানীয় দায়িত্বশীল নেতা যুগান্তরকে বলেন, দলের মধ্যে একটা আলোচনা আছে। পাশাপাশি জোট টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু কৌশলগত বিষয় আছে। এজন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না। আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যরাই সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ভোট দেবেন।

প্রতিটি দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারে। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না; তবে একাধিক প্রার্থী হলে ভোটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্তরা নির্বাচিত হন। একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কোনো জোটে যুক্ত হলে আসন পেতে পারেন, অন্যথায় বণ্টনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আমিনা বেগম রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম এবং সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। এর বাইরে থাকতে পারেন সাঈদা রুম্মান, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নারীরা দলের আমির হতে না পারলেও সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নারী-পুরুষ মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সংখ্যা এক লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশ পুরুষ ও ৪৩ শতাংশ নারী।

মহিলা বিভাগে প্রায় অর্ধলাখ সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় চার লাখ কর্মী এবং অসংখ্য সহযোগী সদস্য নিয়ে সারা দেশে মহিলা বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক মেধাবী নারী, যারা ইসলামি ও আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!