যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একের পর এক প্রধানমন্ত্রী বদলালেও একটি পরিচিত মুখ স্থায়ীভাবে রয়ে গেছে। সে কোনো রাজনীতিক নয়, বরং একটি বিড়াল নাম তার ল্যারি। প্রায় ১৫ বছর ধরে লন্ডনের ১০নং ডাউনিং স্ট্রিট-এ ‘চিফ মাউজার’ বা প্রধান ইঁদুর দমনকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সে।
২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনের বিখ্যাত পশু আশ্রয়কেন্দ্র ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে ল্যারিকে দত্তক নেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়ে তার বসবাস। দায়িত্ব শুধু ইঁদুর ধরা নয় ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে সাংবাদিকদের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের আগমনে দরজার সামনে অবস্থান নেওয়াও যেন তার নিয়মিত কাজের অংশ। ল্যারির দীর্ঘ সময়ে একাধিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন।
ডেভিড ক্যামেরন থেকে শুরু করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার—সবাইকে কাছ থেকে দেখেছে এই বিড়াল। রাজনৈতিক পালাবদল ও নানা টানাপোড়েনের মধ্যেও সে হয়ে উঠেছে ডাউনিং স্ট্রিটের এক নীরব সাক্ষী। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ল্যারির উপস্থিতি নজর কেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর সফরের সময়ও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে তার মুহূর্ত। রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও উত্তেজনার মাঝেও ল্যারির নিশ্চিন্ত পদচারণা অনেকের কাছে স্থিতিশীলতার প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তিত হলেও টেন ডাউনিং স্ট্রিটে তার উপস্থিতি যেন মনে করিয়ে দেয়—কিছু বাসিন্দা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকেও ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।