সুনামগঞ্জের সীমান্ত নদী যাদুকাটার পাড় কেটে বালু উত্তোলন করছেন বাদাঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন। সাবেক এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা।
এর আগে সকালে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের সময় বাঁধা দেন শত শত স্থানীয় জনতা। প্রতিরোধের মুখে নদীর পাড় ছেড়ে যেতে বাধ্য হয় বালু উত্তোলনকারী নৌকাগুলো। পরে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় পাড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় আফতাবের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, আফতাব উদ্দিন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পাড়কেটে কোটি কোটি টাকার বালু লুটপাট করেছেন। পট পরিবর্তনের পরেও একইভাবে বালু লুটের নেতৃত্বে দিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তার লোকজন নদীর পাড় কাটতে আসলে নদীরপাড়ের গ্রামবাসী বাঁধা দেন।
বিক্ষুব্ধ লোকজন জীবন দিয়ে হলেও গ্রাম রক্ষা করার ঘোষণা দেন। স্থানীয় একজন সাংবাদিক জানান, যাদুকাটা-১ ও ২ বালুমহাল ইজারা হয়েছে। প্রশাসন যাদুকাটা-২’এর এলাকা ইজারাদারকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। যাদুকাটা-১’এর সীমানা বুঝিয়ে দেবার জন্য বুধবার সহকারী কমিশনার ভূমি এলাকায় আসেন।
তিনি সীমানা বুঝিয়ে দেবার সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তারা তাঁর বুঝিয়ে দেওয়া সীমানা সঠিক নয় দাবী করেন এবং এভাবে বুঝিয়ে দিতে আপত্তি তুলেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বালু নিতেও তারা আপত্তি জানান। বৃহস্পতিবার যাদুকাটা-১ এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য আপ্তাব উদ্দিনের লোকজন আসলে, এলাকাবাসী বাঁধা দেন।
আফতাব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, গরিব শ্রমিকরা যদি বালু না তোলে, খাবে কিভাবে। সরকারকে রাজস্ব দিয়ে ইজারা এনে নদীর মাঝখান থেকে বালু তোলার সময় কিছু মানুষ বাঁধা দিয়েছে।
প্রশাসন যে জায়গা চিহ্নিত করে দিয়েছে, সেখান থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। কেউই পাড় কাটে নি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাহারুখ আলমম শান্তুনু বললেন, বুধবার ওখানে সীমানা নির্ধারণের জন্য গেলে কিছু লোক আপত্তি তুলেন। একপর্যায়ে ওখানে জটিলতা সৃষ্টি হতে আশঙ্কায় আমরা চলে আসি আমরা। পরে আরেকার গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।