হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুরে সীমনা নদী থেকে কোটি টাকার সিলিকা বালু লুটের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক নাহিদ মিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়েরের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে উপজেলা জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সীমনা ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে আলফাজ মিয়া মহালদার এর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গভীর রাতে ট্রাকভর্তি করে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেও রাত ১২টার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে আসছে।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার প্রতিনিধি ও মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ মিয়া। সংবাদ প্রকাশের পর ৬নং শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মিয়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাধবপুর থানায় ১১১৯ নম্বর জিডি করেন।
জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাংবাদিক নাহিদ তাকে প্রাণনাশ ও লাশ গুমের হুমকি দিয়েছেন। তবে সাংবাদিক নাহিদ দাবি করেন, জিডিতে উল্লেখিত সময়ে উল্লেখিত স্থানে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। উল্লেখিত ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মাধবপুর পৌরসভায় অবস্থান করছিলেন।
তিনি বলেন, “আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি। মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে মোবাইল লোকেশন ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিষয়টি তদন্ত করলে সত্যতা প্রমাণিত হবে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ বলেন, অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক মহলের অভিমত, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।