২০১২ সালের ১০ এপ্রিল, ব্রাজিলের সংসদ সদস্য মার্কো মাইয়াকে নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবল উপহার দেন নেইমার। যা ছিল সান্তোস ক্লাবের শতবর্ষ উদযাপনের প্রতীক। পরে সেই বলটি জায়গা করে নেয় ব্রাজিলের জাতীয় কংগ্রেস ভবনের জাদুঘরে স্মারক হিসেবে।
২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সমর্থকদের দাঙ্গার সময় নেইমারের সাক্ষর করা সেই ফুটবল চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই বল চুরির অপরাধে নেলসন রিবেইরো ফন্সেকা জুনিয়র নামে ৩৪ বছর বয়সী এক ফুটবল ভক্তকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম ফেডারেল কোর্ট। যদিও রিবেইরো দাবি করেছিলেন ব্রাসেলিয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংস হামলার সময় বলটি মেঝেতে পরেছিল।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ থেকে চুরি হওয়া বলটি চুরির ২০ দিন পর সোরোকাবা নামক এলাকায় বলসোনারো সমর্থকের কাছ থেকে পাওয়া যায়। এরপরই নেলসনকে আটক করে শহরের ফেডারেল পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও জিজ্ঞাসাবাদ ও লিখিত বিবরণ লিখে নিয়ে ওই সময় ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে।০২২ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হন জাইর বলসোনারো। কিন্তু বারবারই সেই ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকার করে আসছিলেন তিনি। এরপর ক্ষমতার লড়াই ঘিরে পরের বছরের ৮ জানুয়ারি বিক্ষোভের আগুনে বিস্ফোরিত হয় ব্রাজিল। আর এতেই সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর সমর্থকরা হামলা চালায় দেশটির কংগ্রেস, প্রেসিডেন্ট প্যালেস ও সুপ্রিম কোর্টে।
ধ্বংসযজ্ঞ চালানো সেই হামলার ঘটনায় নেলসনও জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। তাই তাকে ১৫ বছর ৬ মাস জেল এবং আরও দেড় বছর ডিটেনশনে থাকতে হবে। একইসঙ্গে তাকে ১৩০ দিনের জরিমানা করেছেন আদালত। যেখানে প্রতিদিন ব্যক্তিগত মজুরির এক-তৃতীয়াংশ দিতে হবে জরিমানা হিসেবে। সবমিলিয়ে ওই অর্থ দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ব্রাজিলিয়ান রিয়ালে।
এদিকে, সব মিলিয়ে ওই ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়। জাতীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন ও ধ্বংসযজ্ঞের দায়ে অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৩০ মিলিয়ন ব্রাজিলিয়ান রিয়াল আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঘটনার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী আলেক্সান্দ্রে ডি মোরায়েস।
তবে পেশায় একটি ট্রাভেল এজেন্সির ম্যানেজার নেলসনকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিলেও অবশ্য তার শাস্তির পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ব্রাজিলের কয়েকজন মন্ত্রী। তারা ১৫ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব দিয়েছেন। অবশ্য সম্পদ ক্ষতিসাধনের দায়ে দণ্ড প্রত্যাহারের দাবিও তুলেছেন লুইজ ফাক্স নামে আরেক মন্ত্রী।