ভোট দেওয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে নিজের মতামত জানানোর সাংবিধানিক অধিকার। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বহু তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নতুন ভোটারদের উৎসাহ থাকলেও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় অনেকের মধ্যে দ্বিধা দেখা যায়।
তাই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচন বিশেষ, কারণ একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে ভোটদানের ধাপ ও সময়—দুটো ক্ষেত্রেই কিছু বাড়তি বিষয় যুক্ত হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র জানবেন যেভাবে
নিজের ভোটকেন্দ্র আগে থেকেই নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো। নির্বাচন কমিশন কয়েকটি সহজ উপায় রেখেছে—
কেন্দ্রে যাওয়ার সময় সঙ্গে যা রাখবেন
ভোট দিতে এনআইডি কার্ড বাধ্যতামূলক না হলেও সঙ্গে থাকলে পরিচয় যাচাই দ্রুত হয়। সঙ্গে ভোটার নম্বর বা ভোটার স্লিপ থাকলে সুবিধা হবে। এনআইডি না থাকলে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স পরিচয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। কার্ড হারালে আগেই হটলাইনে যোগাযোগ করে পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভোট দেওয়ার সময় ও পদ্ধতি
ভোটগ্রহণ চলবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-দুটি আলাদা ব্যালটে ভোট দিতে হবে।
ভোটদানের ধাপগুলো:-
১. কেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে এনআইডি উপস্থাপন করুন।
২. পরিচয় নিশ্চিত করতে আপনার মুখমণ্ডল অনাবৃত রাখতে হবে যাতে অফিসার এনআইডির ছবির সাথে মেলাতে পারেন।
৩. কর্মকর্তারা আপনার নাম ভোটার তালিকায় চিহ্নিত করবেন।
৪. এরপর আপনাকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে—জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সাধারণত ‘সাদা’ ব্যালট এবং গণভোটের জন্য ‘গোলাপী’ ব্যালট।
৫. ব্যালট বুঝে নেওয়ার আগে নিশ্চিত হোন যে সেটিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে কি না।
৬. সনাক্তকরণ শেষে আপনার বাম হাতে ‘অমোচনীয় কালি’ লাগিয়ে দেওয়া হবে, যাতে কেউ দ্বিতীয়বার ভোট দিতে না পারে।
৭. এরপর আপনি একটি গোপন বুথে যাবেন। আপনার পছন্দের প্রতীকের পাশে সিল মেরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
৮. সিল মারার পর ব্যালটটি সাবধানে ভাঁজ করুন। প্রতীকের সারির মাঝখান থেকে ভাঁজ করে এরপর বাকি অংশ ভাঁজ করুন, যাতে সিলের কালি অন্য প্রতীকে না লাগে।
৯. সবশেষে অফিশিয়ালদের উপস্থিতিতে ব্যালট পেপার দুটি নির্ধারিত ব্যালট বক্সে ফেলুন। এর মাধ্যমেই আপনার ভোটদান সম্পন্ন হবে।
যেসব নিয়ম মানতেই হবে
সুষ্ঠু ও গোপন ভোট নিশ্চিত করতে কিছু বিধিনিষেধ মানা বাধ্যতামূলক—
প্রথম ভোট একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা। একটি ভোটের মাধ্যমেই দেশের নীতি ও নেতৃত্ব নির্ধারণে অংশ নেওয়া যায়। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দুটোই ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। তাই সচেতনভাবে, নির্ভয়ে ও নিয়ম মেনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।