নিজ দলের নেতার মামলায় দিরাই উপজেলা বিএনপির তাহির রায়হান পাবেলসহ ২৪ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মামলাটি (নং ১৩/২১/২/২৬) দায়ের করেছেন আনোয়ারপুর নয়াহাটি গ্রামের আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছেলে ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ (৫০)।
দিরাই থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে ৪জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন, দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দিরাই পৌরসভার আরামবাগ আবাসিক এলাকার মৃত আব্দুস শহিদ চৌধুরীর ছেলে তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল (৫৫), মৃত আফরোজ চৌধুরীর ছেলে ও দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু (৩২), মৃত আজির উদ্দিনের ছেলে ও দিরাই পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মহি উদ্দিন মিলাদ (৪৫) এবং টানাখালি রজনীগঞ্জ এলাকার মৃত মতি মিয়া সর্দারের ছেলে যুবদল নেতা মো. ফয়ছল সর্দার (৩৫)।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি বিকালে বিএনপি প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সমর্থনে শাল্লার শশারকান্দা গ্রামে একটি উঠান বৈঠক নিয়ে তাহির রায়হান চৌধুরীর সাথে আজমল চৌধুরীর তর্ক-বিতর্ক হলে পাবেল তাকে দেওয়ার হুমকি দেন। এসময় সাবেক বিচারপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমিসহ অন্যান্য নেতাকর্মী বিষয়টি অবগত হয়ে পাবেলকে বাড়াবাড়ি না করতে সতর্ক করে দেন।
সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সভার কাজ শেষে মোটরসাইকেলে দিরাই ফেরার পথে আসামি সাজু, মিলাদ ফয়ছলসহ অন্তত ১৫/২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আজমল চৌধুরী ও তার সাথে থাকা দিরাই জগদল গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে জমিরুল হকের উপর হামলা চালায়। হামলায় আজমল হোসেন চৌধুরী ও জমিরুল হক গুরুতর আহত হন। তাদের শোর-চিৎকারে পথচারি এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় আজমল হোসেন চৌধুরীর চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়। তাদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে তাকে চোখের ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মামলা দায়েরে বিলম্বের কারণ হিসাবে চিকিৎসায় ব্যস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এনামুল হক চৌধুরী।