সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুই ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এ দুই ঘটনায় প্রায় ১৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভীমখালি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে মো. আব্দুল খালিকের বসতবাড়িতে আগুন লাগে। আগুনে তার নিজের একটি ঘর ও দুই সন্তানের আলাদা দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
অপরদিকে রাত সাড়ে দশটার দিকে সাচনা বাজার ইউনিয়নের দূর্লভপুর গ্রামে মৃত মো. আব্দুল হানিফের তিন সন্তানের তিনটি বসতঘর আগুনে ভস্মীভূত হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। নোয়াগাঁও গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মো. খালেক মিয়া বলেন, “আমার তিন সন্তানের ৩টি ঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।”
দূর্লভপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুর রহমান বলেন, “আমরা তিন ভাই একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছি। শুকনো মৌসুম হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কোনোভাবে সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হতে পেরেছি। বর্তমানে পরার কাপড় নেই, খাওয়ার মতো অন্ন নেই।” খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জামালগঞ্জ স্টেশনের একটি ইউনিট নোয়াগাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে দূর্লভপুর গ্রামে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের যাতায়াতের অনুকূল ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় এলাকাবাসীর চেষ্টায় প্রায় ২ ঘন্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়ছে। জামালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার বিজয় সিং জানান, ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে দুই স্থানের আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। দুই ঘটনায় মোট আনুমানিক ১৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।