শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

জামালগঞ্জে ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম পাওয়ার ঘটনায় দু’জনকে অব্যাহতি

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম পাওয়ার ঘটনায় আন্দোলনের মুখে হল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কলেজ কতৃপক্ষ ছাত্রী হোষ্টেলের দায়িত্বে থাকা হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

বৃধবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সুজিত রঞ্জন দে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর পুর্বে বুধবার দিনভর কলেজেটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা কলেজটিতে নানা অনিয়ম,দূর্নীতি, ছাত্রী হোস্টেলের দেখভালের দায়িত্ব প্রাপ্তদের অপসারণ এবং সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি যৌন উপকরণ (কনডম) পাওয়া গেছে দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃস্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল কলেজটির ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নেন। ওই সময় হোষ্টেলে ছাত্রীরা ছিলেন না। ভবনের বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে গিয়ে তারা বালতি ভর্তি যৌন উপকরণ (কনডমের) প্যাকেট পান বলে দাবি করেন কলেজের বর্তমান ও সাবেক কিছু শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রী হোষ্টেলে অনৈতিক কার্যক্রম হবার ইঙ্গিত দিয়ে পোষ্ট করেন। বুধবার বেলা ১১ টায় কলেজের বর্তমান ও সাবেক বেশ কিছু শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক এলাকা থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান গ্রহণ করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ছাত্রী হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দোষারোপ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আইনশৃস্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি কলেজ কতৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নিতে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। পরবর্তীতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা এই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

বুধবার রাতে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বলেন, অনাকাঙ্খিত ঘটনার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল এসে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কলেজের হল সুপার, ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে ছাত্রী হোষ্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন এবং তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!