নীতিমালার তোয়াক্কা না করে সিলেটের গোয়াইনঘাটে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার হিড়িক পড়েছে। এসব জমির মাটি যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায়। জমির ওপরের অংশ অর্থাৎ টপ সয়েল ইটভাটায় যাওয়ায় উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি। এতে করে হুমকির মুখে পড়ছে ফসল উৎপাদন। বেশ কিছুদিন ধরে উপজেলার ৭নং নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের নন্দিরগাঁও এলাকার ফসলি জমি থেকে এস্কেবেটরের সাহায্যে এভাবে মাটি কাটা চলছে।
খোঁদ নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ভাটায়ও যাচ্ছে এসব মাটি। দ্রুত ইটভাটার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামীতে খাদ্য ঘাটতিসহ ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতনরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমির উপরিভাগ থেকে এস্কেবেটর (মাটি কাটার মেশিন) দিয়ে মাটি কাটছেন শ্রমিকরা।
এরপর ট্রলি বা ট্রাকের সাহায্যে এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই কৃষকের কাছ থেকে তাদের ফসলি জমি থেকে মাটি ক্রয় করেন ইটভাটার মালিকরা। পরে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় সংরক্ষণ করে রাখেন তারা। এরপর সারা বছর জমাকৃত মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা হয়। সচেতন মহলের দাবি, এভাবে প্রতিনিয়ত মাটি কাটার ফলে উর্বরতা হারাচ্ছে ফসলি জমি।
এতে হুমকির মুখে পড়ছে ফসল উৎপাদন। ৭নং নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইটভাটার মালিক এস কামরুল ইসলাম আমিরুল বলেন, ‘আমরা নিজেরা মাটি কাটি না, মাটি কিনে ব্যবহার করি। সাধারণত যারা মাটি সরবরাহ করে, তারাই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা তাদের কাছ থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প মাটি কিনে রাখি। এই মাটি তারা নিজের জমি কিংবা এমন জায়গা থেকে নিয়ে আসে, যেগুলো পরিত্যক্ত বা চাষাবাদের অযোগ্য।’
প্রশাসনের অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণত মাটি আগে থেকেই সংগ্রহ করা থাকে। অল্প কিছু মাটি প্রতিবছর প্রয়োজন হয়। যারা মাটি বিক্রি করেন তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমরা ক্রয় করি। প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয় না।
আমরা কেবল ক্রেতা হিসেবে তাদের কাছ থেকে মাটি সংগ্রহ করি। মাটি পরিবহনের জন্য তাদের নিজস্ব গাড়ি থাকে এবং মূল্য হিসেবে আমরা প্রতি ফুট মাটির জন্য প্রায় সাড়ে সাত টাকা পরিশোধ করি।’ এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।
তবে শুধু নন্দিরগাঁও ইউনিয়নে নয় বরং কয়েকটি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। ফলে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি। এ বিষয়ে তদারকি করে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘মাটির উপরিভাগ কাটা সম্পূর্ণ নিষেধ। যারা এটা করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’