নিজস্ব প্রতিনিধি:- দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর পর সিলেটের পাথর ও বালু কোয়ারি থেকে বালু-পাথর তোলার অনুমতি নিয়ে সিলেটে শুরু হয়েছে চক্রান্ত। একটি চক্র এই আদেশ বা প্রজ্ঞাপনকে ভুয়া বলে প্রচারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আদেশ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধুম্রজাল। কেউ কেউ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই আদেশের কপি পাওয়া যায়নি বলেও মন্তব্য করছেন।
এছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারী) পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন কপি না পাওয়ারও কথাও বলছেন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতের চাপে টানা কয়েক বছর ধরে কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করেছিল আওয়ামী সরকার। এরপর থেকে ভারত থেকে তোলা পাথর আমদানী করছিল বাংলাদেশে।
পাথর তুলতে ভারতের পরিবেশ নষ্ট হয় না, কেবল যেন নষ্ট হয় বাংলাদেশের। এমন অভিযোগে বাংলাদেশের পাথর উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছিলো বলে জানান এই খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক।পাথর কোয়ারী বন্ধের সিদ্ধান্তে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়ে বিশাল ধাক্কা।
সোমবার (১৩ জানুয়ারী) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ২০২০ সালের আদেশ বাতিল করে বিভাগীয় কমিশনার ও সকল জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব সাবরিনা আফরিন মুস্তাফা স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সারাদেশে গেজেটভুক্ত কোয়ারিগুলোর ইজারা কার্যক্রম সংক্রান্ত বিষয়ে এ বিভাগের গত ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯ নম্বর স্মারকে “সারাদেশে গেজেটভুক্ত পাথর কোয়ারি, সিলিকাবালু কোয়ারি, নুরীপাথর, সাদা মাটি উত্তোলনসহ অন্যান্য সকল কোয়ারির ইজারা আপাতত: বন্ধ থাকবে” মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্তটি এতদ্বারা নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (অপারেশন-৩ শাখা)’র সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরিনা আফরিন মুস্তাফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদেশের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আদেশটি সঠিক। যে বা যারা এটা নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা সিলেট অফিসের সাথে ০১৭১২-০০৪৫২৮ এই নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে অফিস থেকে জানানো হয়, মন্ত্রণালয়ের এরখম আদেশ বা প্রজ্ঞাপন আমাদের কাছে আসার কথা না। আমরা যতটুকু জানি একটা আদেশ দেয়া হয়েছে।
যেহেতু বেলা মামলাটি করেছিল সেহেতু বিষয়টি আপনাদের জানা আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়, আমি দুপুরের ‘লাঞ্চে আছি’ এ বিষয়ে আপনার সাথে পরে কথা বলি।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ১৮ জানুয়ারী থেকে পাথর ও বালু কোয়ারিগুলো ফিরবে আগের রুপে।
জানা গেছে, হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়, সেই সাথে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান জড়িত সিলেটের সবক’টি পাথর কোয়ারীতে। পাথর কোয়ারীগুলো ছিল সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতির মজুবত ভিত্তি।
পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগ তুলে সেই কোয়ারী গুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। একই সাথে বন্ধের প্রক্রিয়াকে আইনী প্রলেপ দিতে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) মামলা করে বসে। মামলার কারণে দীর্ঘ ৫/৬ বছর ধরে কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
বেলা’র মামলার রায় ঘোষণার পর স্থানীয় প্রশাসন পাথর উত্তোলন বন্ধে একাট্টা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সেই পাথর কোয়ারীগুলো থেকে সনাতনী পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের জন্য আদালতের একাধিকবার নির্দেশনা আসলেও তা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ দেখায়নি সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পাথর কোয়ারী খুলে দেয়ার দাবীতে হরতাল, পরিবহন ধর্মঘট, মিছিল সমাবেশ, মানববন্ধনসহ কর্মসূচীর পর কর্মসূচী পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা, কিন্তু কিছুতেই সংশ্লিষ্টদের টনক নড়েনি। অবশেষে ১৩ জানুয়ারী আদেশ জারি করা হয়। সেই আদেশ নিয়েও শুরু হয়েছে চক্রান্ত।