ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। কে কোন মন্ত্রণালয় পাবেন, কে প্রেসিডেন্ট হবেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ঠিক তেমনি ক্রীড়াঙ্গনের মানুষরা চেয়ে আছেন ক্রীড়ামন্ত্রীর দিকে।
এখন কে হতে পারেন বিএনপির নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী? তা নিয়েও নানা হিসেব-নিকাশ, জল্পনা-কল্পনা। ক্রীড়ামন্ত্রী হতে আলোচনায় ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বারবার কারাবন্দী ছিলেন তিনি। বিএনপির আন্দোলনে বেশ সক্রিয় ছিলেন সাবেক এই গোলরক্ষক।
স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ হওয়ায় ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আমিনুলই ছিলেন প্রথম পছন্দ। কিন্তু সংসদ নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি আমিনুল। তাই আমিনুল হককে শেষ পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যাবে কিনা তা নিয়ে জোর সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও আলোচনা শুরু হয়েছে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আমিনুল হককে স্পোর্টসে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
তারপরেও আমিনুল হকের ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্রীড়ামন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সত্তোরোর্ধ্ব তিন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। তারা হলেন- মনিরুল হক চৌধুরী, আলি আজগর লবি এবং নিতাই চন্দ্র রায়। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের বেশ পরিচিত মুখ মনিরুল হক চৌধুরী। এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা, অবিভক্ত ছাত্রলীগের শেষ সভাপতি, পরবর্তীতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির এমপি হওয়া মনিরুল চৌধুরী জীবনের বড় সময় ঢাকা মোহামেডানের মত দেশবরেণ্য ক্রীড়া শক্তির অন্যতম শীর্ষকর্তা হিসেবে ৭০, ৮০ এবং ৯০ দশকের প্রায় পুরো সময় নিয়োজিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। মনিরুল হক দায়িত্ব পালন করেছেন মোহামেডানের গভর্নিং বডির সদস্য সচিবেরও। বিভিন্ন সময় মোহামেডানের অন্যতম শীর্ষকর্তা হিসেবে পরিগণিত ছিলেন। তিনি ক্রীড়া অঙ্গনকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখেন এবং তার ক্রীড়া প্রেম, ক্রীড়াবোধ যথেষ্ট। সেই বিবেচনায় মনিরুল চৌধুরীকে পিছিয়ে রাখা যায় না। বিএনপির আরেক নেতা খুলনা থেকে বিজয়ী হয়ে আসা আলি আজগর লবি।
যিনি এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ খুলনার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি পদে ছিলেন ছিলেন তিনি। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান বোর্ড প্রধান হিসেবেই তাকে পরিগণিত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে সে অর্থে কোন ধরনের কোন অপবাদ বা কোন বিতর্ক নেই। কাজেই আলি আজগর লবিকেও কিন্তু ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি আরেক বর্ষীয়ান নেতা নিতাই চন্দ্র রায়ের কথাও শোনা যাচ্ছে।
কিন্তু বিপরীত একটি ধারাও প্রবাহমান। ধারণা করা হচ্ছে তারেক রহমান তার মন্ত্রণালয়ে প্রবীণের সঙ্গে নবীনের সমন্বয় ঘটাতে পারেন। সেদিক থেকে তরুণ কেউ যদি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সেই ক্ষেত্রে কিছু নাম উঠে আসছে।
বিএনপির প্রয়াত নেতা একসময়ের প্রায় জাতীয় নেতার মর্যাদায় থাকা তরিকুল ইসলাম মিয়ার ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে বিএনপির একমাত্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। পাশাপাশি বিএনপির সাবেক অন্যতম শীর্ষনেতা, ঢাকার সাবেক সফল মেয়র এবং ৯১ সালে বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনেরও কথা শোনা যাচ্ছে সম্ভাব্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে।