ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় মঞ্চ যদি একটি হয়, তবে সেটি নিঃসন্দেহে লর্ডস। ইংল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক মাঠকে বলা হয় ‘হোম অব ক্রিকেট’ যেখানে পা রাখাটাই বহু ক্রিকেটারের আজন্ম স্বপ্ন।
আর সেখানে সেঞ্চুরি বা পাঁচ উইকেট পেলে নাম ওঠে অনার্স বোর্ডে, যা ক্রিকেটারদের জীবনের অন্যতম অর্জন হিসেবে বিবেচিত।
কিন্তু কেমন হয়, যদি সেই লর্ডসেরই এক চিলতে ঘাস আপনার শো-কেসে বা অফিস ডেস্কে জায়গা করে নেয়? এবার সেটাই সম্ভব হচ্ছে।
বিশ্বক্রিকেটের ‘হোম অব ক্রিকেট’ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট মাঠের আউটফিল্ডের ঘাস বিক্রি হবে। যে কেউ চাইলেই কিনে নিতে পারবেন এই মাঠের মূল ঘাসের একটি টুকরো।
১.২ মিটার বাই ০.৬ মিটার মাপের প্রতিটি ঘাসের দাম ৫০ পাউন্ড, অর্থাৎ ৮ হাজার টাকার বেশি। আগামী মাসে মাঠের ঘাস তোলা হবে, এরপর তা তুলে দেওয়া হবে ক্রেতাদের হাতে।
১৮১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত লর্ডস শুধু ক্রিকেট মাঠ নয়, ক্রিকেট ইতিহাসেরই এক জীবন্ত নিদর্শন। একসময় এখানেই ছিল আইসিসির সদর দপ্তর। এখনো এমসিসি (মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব), ইসিবি এবং আইসিসি ইউরোপের কার্যালয় এখানেই অবস্থিত। লর্ডসেই রয়েছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ক্রীড়া জাদুঘর এবং ক্রিকেটভিত্তিক সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগার।
এই মাঠে খেলতে পারাটাকেই অনেক ক্রিকেটার জীবনের অন্যতম গর্ব হিসেবে দেখেন। এখানকার ‘অনার্স বোর্ডে’ নাম ওঠে যারা শতক করেন বা ৫ উইকেট পান। কিছুদিন আগেই এখানে হয়েছে ইংল্যান্ড-ভারতের ‘অ্যান্ডারসন–টেন্ডুলকার ট্রফি’র ম্যাচ, চলছে ‘দ্য হানড্রেড’ টুর্নামেন্ট।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, লর্ডসের আউটফিল্ডের ঘাস নতুন করে বসানো হবে। এ জন্য পুরোনো ঘাস তুলে তা কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এমসিসি।
প্রাথমিকভাবে সদস্যদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মাঠের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং এমসিসি ফাউন্ডেশনের জন্য তহবিল সংগ্রহে আমরা আপনাদের লর্ডসের মাঠের একটি টুকরার মালিক হওয়ার সুযোগ দিচ্ছি—সেই মঞ্চের অংশ, যেখানে অসংখ্য জাদুকরী মুহূর্ত জন্ম নিয়েছে।’
২৫ হাজার সদস্য থাকা এমসিসি-র বাইরেও সাধারণ ভক্তরা চাইলে ঘাসের এই টুকরা সংগ্রহ করতে পারবেন। বিক্রয়লব্ধ অর্থের ১০ শতাংশ যাবে এমসিসি ফাউন্ডেশনে, বাকি ব্যয় হবে মাঠের অবকাঠামো উন্নয়নে।
লর্ডসের এক্স পেজ থেকেও ক্রেতাদের আহ্বান জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘এই শরতে লর্ডসের ঐতিহাসিক আউটফিল্ডের পুনর্গঠনের সময়, আপনাদের জন্য সুযোগ এসেছে মাঠের পবিত্র মূল ঘাসের একটি টুকরা ঘরে নিয়ে যাওয়ার।
সংখ্যায় সীমিত, সংগ্রহ করা যাবে ২৯ বা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে, শুধুই লর্ডস থেকে। মিস কোরো না!’
দ্য টেলিগ্রাফ-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মাঠের আউটফিল্ড খোঁড়া হবে। ২০টি পিচ থাকলেও মূল স্কয়ার অক্ষত থাকবে। কাটা হবে উপরিভাগের ১৫ মিলিমিটার ঘাস, এরপর বপন করা হবে নতুন বীজ।
সাম্প্রতিক সময়ে ফিল্ডারদের ডাইভ দেওয়ার সময় ঘাস উঠে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
লর্ডসের আউটফিল্ড শেষবার সংস্কার করা হয়েছিল ২০০২ সালে। তখন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি করা হয়েছিল। সেবারও ঘাস টুকরা টুকরা করে নিলামে তোলা হয়েছিল, প্রতিটির মূল্য ছিল ১০ পাউন্ড। বিক্রি হয়েছিল মোট ৩৫ হাজার পাউন্ডের ঘাস। এমনকি একজন ব্যক্তির ঘাসে পুরো লন বানাতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ২৬০ পাউন্ড।