রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে টানানো সব ধরনের ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী প্রদর্শনী দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আজ সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় হাতিরঝিল সংলগ্ন পুলিশ প্লাজার সামনে নিজের ছবি সংবলিত একটি ব্যানার দেখে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং সেটি দ্রুত সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন, যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তি যেন বিলবোর্ডে অভিনন্দন জানিয়ে তার ছবি ব্যবহার না করেন। এর আগেও কয়েক দিন আগে বিজয় সরণি এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি এলইডি স্ক্রিনে অভিনন্দন বার্তা প্রদর্শিত হতে দেখে তিনি তৎক্ষণাৎ তা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সরকারি কাজের প্রচারের চেয়ে ব্যক্তিগত স্তুতির দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়াকে তিনি নিরুৎসাহিত করছেন। উল্লেখ্য যে, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দিনের কাজ শুরু করেন, যেখানে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ দিনের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার তাগিদ দেন।
বিশেষ করে জলদস্যুতা রোধ, মানবপাচার ও অবৈধ চোরাচালান বন্ধে নিয়মিত টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়াও দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং জেলেদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ডকে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশের সামুদ্রিক সীমানায় যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান।
এদিকে, রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি নিয়ে একটি ইতিবাচক পরিসংখ্যান আজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ভিআইপি প্রটোকল বা রাস্তা বন্ধ না করে সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলায় যানবাহনের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত ১৪ দিনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগে রাজধানীর গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার, যা বর্তমানে বেড়ে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থেকে উদাহরণ সৃষ্টি করায় এখন রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীরাও একই নিয়ম অনুসরণ করছেন, যার সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়েও প্রধানমন্ত্রী সজাগ রয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
গত সোমবার প্রান্তিক মানুষের প্রধান খাদ্য ‘মোটা চাল’ এর দাম বৃদ্ধির সংবাদ প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তৎক্ষণাৎ খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের ফলে খুচরা বাজারে চালের দামের ওপর তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে যেকোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।