সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কুচাই এলাকা থেকে মানব পাচার মামলার পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-৯ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম আজহার আহমদ (৪২)। সে দক্ষিণ সুরমা থানার কুচাই পশ্চিমপাড়ার জুনেদ আহমদের ছেলে।
আজহার মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮ ধারায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর পলাতক আসামি।
র্যাব-৯ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্তরা পর্তুগালে শ্রমিক পাঠানোর নাম করে একাধিক ব্যক্তির নিকট থেকে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি তামিম নামের প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি পর্তুগালে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার কথা বলে শ্রমিক নিয়োগের প্রলোভনে এই টাকা সংগ্রহ করে।
পরে তারা ভুক্তভোগী ১৮ জনকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে ভিসার প্রক্রিয়ার নামে প্রতারণা করে। ২০২৪ সালের ২০ মার্চ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে ধরা পড়লে জাল ভিসার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
ভুক্তভোগীদের প্রতারণার শিকার হওয়ার পর টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর বাদী এসএমপি’র দক্ষিণ সুরমা থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন (এফআইআর নং-১৭, তারিখ ২৮/০৪/২০২৫)।
র্যাব-৯ মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৮ আগস্ট দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন কুচাই জামে মসজিদের সামনে অভিযান চালিয়ে আসাম আজহার আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর তাকে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মানব পাচারসহ অন্যান্য ঘৃণ্য অপরাধ দমনে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান থাকবে।