মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রো‌হিঙ্গা‌দের ২৬ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা দি‌চ্ছে জাপান শাহজালাল (রহ.)–এর ব্যবহৃত সামগ্রী সংরক্ষনের জন্য জাদুঘর স্থাপনের নির্দেশ সিলেটে অনটেষ্ট সিএনজি, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা সিলেটে ফাহিম হ ত্যা মামলার পলাতক আসামি ‘কুত্তা রনি’ গ্রে ফ তা র জকিগঞ্জে ইট চুরির অভিযোগে যুব জামায়াতের সেক্রেটারিসহ গ্রেপ্তার ৬ ছাতকে বিভিন্ন মামলার ৩ আসামী গ্রেফতার জকিগঞ্জে রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার ছিনতাইকারীর হাতের কবজি কে টে পুলিশে সোপর্দ বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ‘স্যার’ সম্বোধন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে

গরু চোর থেকে কোটিপতি টেম্পু মঈন!

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৯১১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:- জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা রুনু মিয়া এক সময় ছিলেন এলাকার ছিঁচকা চোর। এমন কোন দিন নেই তিনি চুরি করেন নাই। হাস, মুরগি, ধান, সুপারী, কাপড়সহ যার যেটা হাতের সামনে পড়ত সেটাই তিনি চুরি করে নিয়ে যেতেন।

চুরি থেকে এক সময় তিনি জড়িয়ে পড়েন চোরাচালানের সাথে। চিনি, গরু, ভারতীয় পণ্য এসব পাচার করে দিতেন লোকজনের।

১৯৭৯ সালের দিকে এলাকায় একটি গরু চুরির ঘটনায় গ্রাম ছেড়ে সিলেট শহরে আসেন জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী উপজেলার বাসিন্দা মৃত আবদুর রহিমের ছেলে কাজী রুনু মিয়া মঈন উরফে টেম্পু মঈন। সিলেট শহরতলীর বাহুবলে এসে প্রথমে রুনু মিয়া দিনমুজুরের কাজ করেন।

১৫০/২০০ টাকা রুজে তিনি প্রতিদিন কাজ করতেন। সংসারে ছিল অভাবের চাপ।  তারপর তিনি নগরীর লামাপাড়া এলাকার একটি গ্যারাজের রিকসা চালানো শুরু করেন। কিছুদিন রিকসা চালানোর পর হয়ে উঠেন তৎকালীন বেবিট্যাক্সি ড্রাইভার।

১৯৯৮ সালে বেবিট্যাক্সি ছেড়ে প্রবেশ করেন টেম্পুর জগতে। সেখান থেকেই উত্থানের শুরু রুনু মিয়ার। ২০০৫ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন সিলেট জেলা টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের। সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় টেম্পু মঈন।

১৩২৬ নম্বরে চট্টগ্রাম থেকে নিবন্ধিত এ ইউনিয়নটি বর্তমানে সিলেট জেলা হিউম্যান হলার চালক শ্রমিক ইউনিয়ন নামে পরিচিত। বিভিন্ন পত্রিকা ও এলাকার কয়েকজনের তথ্য সুত্রে জানা যায়, শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হওয়ার পরই রুনু মিয়ার জীবনচিত্র পাল্টাতে থাকে। কাঁচা টাকা আসতে থাকে তার পকেটে। শ্রমিকদের শ্রম-ঘামের টাকা দিয়ে শুরু করেন জায়গা-জমির ব্যবসা।

স্থানীয় প্রভাবশালী ‘ মামা খন্দকারে’র সাথে মিলে এ ব্যবসায় দুহাতে টাকা কামাতে থাকেন। শ্রমিকদের টাকা আর জায়গার দালালি করে টাকার দাপটে তার কিছু সঙ্গী সাথীও জুটে যায়।

২০০৫ সালে সেই যে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তারপর আর এ পদ তিনি আর ছাড়েননি। সেই সময় মেয়াদ শেষে নির্বাচন না দেওয়ায় কমিটির ৬ সদস্য পদত্যাগও করেন অবৈধ কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক ইনসান আলীকে সঙ্গী করেই চলে তার সকল অপকর্ম।

রুনু মিয়ার রয়েছে একটি মামলা দেওয়ার বাহিনী। এলাকায় কেউ লোন ধরনের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ঘায়েল করা হত।

বিগত আওয়ামিলীগ সরকারের আমলে রুনু মিয়ার ছেলে সোহেল, রুবেল ও জাকির ও তাদের বহিনী মিলে এলাকায় তৈরী করেছিল সন্ত্রাসের রাজত্ব। জায়গা দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদকব্যবসাসহ এমন কোন কাজ নেই তাদের মাধ্যমে হয়নি। আওয়ামিলীগের শাষনামলে তাদের জন্য এলাকায় কেউই শান্তিতে বসবাস করতে পারেনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘদিন সভাপতি থেকে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন রুনু মিয়া। এ অভিযোগেও সিলেটের শ্রম আদালতে মামলা হয়েছিল। শ্রমিকদের ভাষ্য, ১৮ বছরের কোনো টাকারই হিসাব পাননি তারা, এমনকি ইউনিয়নের নামে কোনো অ্যাকাউন্টও নেই। রুনু মিয়ার পকেটই যেনো ইউনিয়নের অ্যাকাউন্ট।

ইউনিয়নের নামে ইচ্ছেমতো টাকা আদায় করেছেন তিনি। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করো সদস্য অন্তর্ভুক্তির নামে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেন তিনি। প্রতি বছর সদস্য নবায়নের নামে আড়াই হাজার সদস্যের কাছ থেকে আরও ১২০ টাকা করে আদায় করা হয় ইউনিয়য়নের নামে।

লাইন খরচ নামে মাসে আরও ৬শ টাকা করা হয় সদস্যদের কাছ থেকে। দৈনিক চাঁদা দিতে হয় আরও ৪০ টাকা করে। সব কিছু হিসেব নিকেশ করে শ্রমিকরা বলছেন, অন্তত ৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ঢুকেছে রুনু মিয়ার পকেটে।

জকিগঞ্জের গ্রাম থেকে চুরির ঘটনায় সিলেট আসা রুনু মিয়া মঈনের সম্পদের দিকে তাকালে হয়তো সে হিসেব মিলতে পারে। এক সময়ের দিনমজুর ও রিকশাচালক রুনু মিয়ার এখন খাদিমনগরে ৫/৬টি বাড়ির মালিক। জকিগঞ্জে  রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। সেই সাথে সিলেটে অন্যান্য স্হানেও রয়েছে তার অবৈধ সম্পদ।

সুত্র থেকে জানা যায়, রুনু মিয়া তার বাসার একটিকাজের মেয়েকে ধর্ষন করতে গিয়ে ফেসে যায়। সে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ঐ মেয়েকে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে। সুত্র মতে ঐ মেয়ের বাড়ি নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলায়।

রুনু মিয়ার ছেলেদের ব্যাপারে এলাকায় কেউ কোন বিচারপ্রার্থী হলে তাদেরকে ডেকে নিয়ে পিটানো হত। মামলার ভয় দেখিয়ে তাদেরকে কোনঠাসা করে রাখা হত।  রুনু মিয়ার ছেলে আওয়ামিলীগের নেত পরিচয়ে এলাকায় সব ধরনের অবৈধ লাজ করত বলেও কয়েকন জানান। রুনু মিয়া গ্রেফতারে বর্তমানে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে।  কয়েকজন এলাকাবাসী সাথে আলাপকালে তারা জানান, রুনু মিয়ার কঠিন শাস্তি আমরা চাই সেই সাথে তার সকল সম্পদের উৎস খোজে বের করাও প্রয়োজন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!