নিজস্ব প্রতিবেদক:- সিলেটের আলোচিত ভূমিদুস্য রতন মনি মোহন্তের দুর্নীতি, জায়গা দখল, টিলা কাটা, অবৈধ সম্পদের সংবাদ প্রথম সকালে ধারাবাহিক প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়ছে প্রশাসনের।
মঙ্গলবার ২৮ জানুয়ারী দুপুরে রতন মনি মোহন্তের বাড়িতে হানা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইসি)। সুত্র জানায়, অভিযান পরিচালনা করে জব্দ করা হয় দলিল দস্তাবেজ, ৪০ টি ডায়েরী ও নগদ ৭লাখ টাকা।
এসময় রতন মনি মোহন্তকে পাওয়া যায়নিতবে তার ভাগ্নে বিধান মোহন্তকে তুলে নেয়া হয়। অবশ্য বিকেলে তাকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে রতন মনি মোহন্তের বাড়িতে অভিযয়ানের পর নাথপাড়া এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় শুরু হয়েছে গুঞ্জন। রতন মনি ও তার দোসরদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
একটি সুত্র নিশ্চিত করে, রতন মনি মোহন্ত অভিযানের খবর পেয়ে মঙ্গলবার ভোরে কয়েকটি ব্রীফকেইসে প্রচুর পরিমান দলিলাদী, সোনা গহণা, টাকা পয়সা নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তার বেয়াইয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ঐ বেয়াই আওয়ামিলীগের প্রভাবশালী এক নেতা বলে জানা গেছে।
নাথপাড়া এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, রতন মনির কাছে যারা যারা জায়গা ক্রয় ও বিভিন্ন কাজের জন্য টাকা দিয়েছিলেন তারা এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সুত্র বলছে প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে রতন মনি লাপাত্তা হয়ে গেছে।
স্বপ্নপুরনে বাধা:- রতন মনির সর্বশেষ জালিয়াতির টার্গেট ছিল তার স্বপ্নের ‘স্বপ্ননীড়’ নামক কথিত সেই প্রকল্প। জালজালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের জায়গা দখল করে প্রকল্প গড়ে তোলার পায়তারা করে।
১৭ জন পার্টনারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয় টাকা। সে নিজে প্রকল্পের চেয়ারম্যান সেজে তৈরী করে একটা ব্যবসায়িক পার্টনারশীপ দলিল। বহুল আলোচিত ভূমি খেকো জাল জালিয়াত চক্রের প্রধান রতন মনি মোহন্তের “স্বপ্ন নীড়” হাউজিং প্রকল্পে রয়েছেন বেশ কয়েকজন সরকারি বেসরকারি ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা।
বিভিন্ন সুত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রতন মনি মোহন্ত জোর পুর্বক দখলকৃত জায়গাগুলো হালাল করতে কৌশলে এসব ব্যাক্তিদের নিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন:- ১। বিধান মোহন্ত, রতন মনির আপন ভাগনা, পেশা দলিল লেখক পাশাপাশি জায়গার দালালি, ২। সজিব মোহন্ত রতন মনির ভাগনা পেশা ছাত্র,৩। রাহুল সরকার, সোনালী ব্যাংক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, সিলেট সিটি শাখা, বর্তমানে শাহপরান শাখা, ৪। ধীরেন্দ্র দেব নাথ নয়ন, রতন মনির বাসার কাজের লোক ও রতন মনির সকল কুকর্মের দুসর, ৫। মিজান উদ্দিন চৌধুরী, বাড়ী বিয়ানীবাজার, পেশায় ব্যাবসায়ী, ৬। জীবন মজুমদার জীবলু, সেটেলমেন্টে অফিসের দালাল ও কাগজ জালীয়াতীর করা তার পেশা, ৭। মাহবুবুর রহমান, বাসা রজনীগন্দ্বা টাওয়ার, ইসলামপুর মেজরটিলা, ৮। তপন কুমার নাথ, প্রভাশক, জৈন্তা কলেজ. ৯। সুভাষ চন্দ্র আচায্য, সোনালী ব্যাংক অফিসার, ১০। সত্যেন্দ্র লাল রায়, সাব রেজিস্টার, বাড়ী হবিগঞ্জ, বর্তমানে নাথপাড়া ১১। অজিত কুমার দাশপুরকায়স্হ, বাসা ফালগুনী, মেজরটিলা, পেশা কারেন্টমিস্থি টিকাদার, ১২। স্বপন লাল বৈধ্য, বাসা মুড়িলা দেবপুর, মেজরটিলা, বর্তমানে কানাডা। ১৩। সনত চন্দ্র দেব নাথ, পেশা দলিল লেখক, রতন মনির সহযোগী ও জায়গা ক্রয় বিক্রয় করে, ১৪। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, ১৫। সাবেক চুরির ভোটে নির্বাচিত ৩২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সরকারি কলেজ সভাপতি রুহেল আহমদ, ১৬। অপুর্ব রায়, বসা নাথোড়া, পেশা হুন্ডি, ১৭। শিশির চন্দ্র হালদার, বাসা নাথপাড়া, পেশা ব্যবসা।
এদিকে সরেজমিন অভিযানের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে। ভিডিও ধারণে দেখা যায় অভিযান শেষে টাকার বস্তা সহ রতন মনি মোহন্তের ভাগ্নে বিধান মোহন্তকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অল্পদিনে বনে যাওয়া কোটিপতি রতন মনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাল-জালিয়াতি কাগজাদি তৈরী, পাহাড় (টিলা) ধ্বংস করে অবৈধ পন্থায় সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছিলো। সম্প্রতি এনিয়ে প্রথম সকালে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
ভুূমিদুস্য রতন মনির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে অবৈধ পন্থায় নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন পাহাড় সম বিপুল সম্পত্তি। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক তার বিরুদ্ধে নামেমাত্র তদন্ত চালিয়ে সর্বসাকুল্য সম্পত্তির হিসেব দামাচাপা দিয়ে রাখে।
এছাড়াও অভিযোগ মিলেছে কোটি টাকার উর্ধ্বে সরকারী রাজস্ব হাতিয়ে নিয়েছে রতন মনি মোহন্ত। নিজের দুর্নীতি ঢাকতে একদল সিন্ডিকেট তৈরী করে তাদের নামে বিভিন্ন ভূমি পাওয়ার অফ এ্যার্টনীর মাধ্যমে জায়গা বিক্রয় করে হাতিয়ে নেন টাকাকড়ি।
সে নিজের নামে খুব অল্প সংখ্যক ভূমির দলিলাদি ও পাওয়ার অফ এ্যার্টনী করে রেখেছে। অথচ গায়েবি ভাবে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যলেন্স লেনদেন করেছে রতন মনি। গড়ে তুলেছে বিলাস বহুল গাড়ি, বাড়ি ও সহায় সম্পত্তি। দুই ছেলেকে কানাডায় পাটিয়ে সেখানে কিনেছে বিলাস বহুল বাড়ি।
সুষ্টু তদন্তের অভাবে বিপুল টাকা ব্যয় করে নিজেকে আত্মরক্ষার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। অবশেষে আজ মঙ্গলবার তার বসত ঘরে অভিযান পরিচালনা করে রাজস্ব কর্মকর্তার একটি দল।