বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন

সৌদি আরবের বন্দিদশা থেকে বাড়ি ফিরলেন সিলেটের তিন ভাই

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

প্রথম সকাল ডেস্ক:- পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে গিয়ে কারাবন্দী হওয়া সিলেটের সেই তিন ভাই দেশে ফিরেছেন। গত শনিবার তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই প্রথমে দেশে ফেরেন।

মঙ্গলবার দুপুরে আরেক ভাই সৌদি আরব থেকে ছেড়ে আসা বিমানে করে দেশে এসে পৌঁছেছেন।

সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা তিন ভাই সিলেট সদর উপজেলার ইসলামগঞ্জ বাজার কালারুকা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা হলেন আবদুর রহমান, রিয়াজ উল্লাহ ও মোহাম্মদ আলী। তাঁদের মধ্যে রিয়াজ উল্লাহ মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছান।

দেশের জাতীয় গণমাধ্যমে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘একসঙ্গে তিন ছেলে পাঁচ মাস ধরে সৌদি আরবে বন্দী, সিলেটে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ মায়ের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর তৎপর হয় সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস।

তিন ভাইয়ের দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবদুর রহমান নিজেই। তিনি বলেন, অনকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনায় ৯ মাস কারাবন্দী থাকার পর অবশেষে মুক্ত হয়েছেন তাঁরা। ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তাঁরা।

ঋণ শোধ করার আগেই পুলিশ সেখানে তাঁদের আটক করে। ৯ মাস হাজতে থাকার পর দেশে ফিরেছেন। তিন ভাইয়ের মাথায় এখনো ঋণের বোঝা। কিন্তু দেশে ফিরতে পেরে, মায়ের কাছে আসতে পারাটাকেই বড় পাওয়া হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

কী কারণে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমান জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে সৌদি আরবের রিয়াদের হারা এলাকায় একটি মিছিল হয়েছিল। ওই দেশে মিছিল করা নিষেধ, কিন্তু তাঁরা বিষয়টি জানতেন না। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিকে আটক করেছিল সৌদি আরবের পুলিশ।

পরে তাঁরা ৯ মাস হাজতে ছিলেন। এর মধ্যে অনেকের কাছে ঋণ করে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়েছেন। প্রথমে এক দফা এবং পরে আরেক দফা ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। তিন ভাই সৌদি আরবে বন্দী থাকায় দেশে মায়ের অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এখন তিন ভাই দেশে ফেরায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঋণ ও জমি বিক্রির টাকা দিয়ে তিন ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তাঁদের মা মোছা. তেরাবুন বেগম। ছেলেরা সেখানে কারাবন্দী হওয়ার পর তাঁদের মুক্তির জন্য বিভিন্নজনের কাছে ছুটেছেন। অবশেষে তাঁদের মুক্তি হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে তেরাবুন বেগমের মনে।

তেরাবুন বলেন, ছেলেদের চিন্তায় তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ভিন দেশে ছেলেরা বন্দী অবস্থায় কেমন দিন কাটাচ্ছেন, কী খাচ্ছেন, সে চিন্তায় তাঁর খাওয়া-ঘুম ঠিকমতো হতো না। এখন তাঁরা দেশে ফেরায় ভালো লাগছে। যদিও ঋণগ্রস্ত হওয়ায় কিছুটা চিন্তিত। এরপরও ছেলেরা দেশে ফিরেছে এতেই তাঁর শান্তি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!