নাইজারের রাজধানী নিয়ামের দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ঘটনায় ২০ হামলাকারী নিহত হওয়ার দাবি করেছে দেশটির সরকার। একইসঙ্গে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় ফ্রান্স, বেনিন এবং আইভরি কোস্টকে দায়ী করা হয়েছে। পাশাপাশি হামলা প্রতিরোধের জন্য রুশ সেনাদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পরিদর্শন করার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই দাবি করেন জেনারেল আবদুরাহমানে তিয়ানি। ফ্রান্স, বেনিন ও আইভরি কোস্ট এখনও এ দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এছাড়া হামলার জন্য কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত দায় স্বীকার করেনি।
নাইজারের প্রেসিডেন্টের মহল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিস্ফোরণ এবং গুলির ঘটনা ঘটেছিল। নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সালিফু মোডি জানান, হামলা প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়, তার পর আকাশ ও স্থল অভিযান চালানো হয়।
এতে চারজন সামরিক সদস্য আহত হয়েছে এবং ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে। রাষ্ট্র টেলিভিশন জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন ফরাসি নাগরিকও ছিল। ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিয়ানি বলেন, আমরা তাদের ঘেউ ঘেউ শুনেছি, তারা আমাদের গর্জন শুনতে প্রস্তুত থাকুক।
ঘাঁটির সেনা রক্ষা করার জন্য তিনি রুশ সেনাদের ধন্যবাদ জানান। রাশিয়া সামরিক সহায়তা প্রদান করছে দেশটিতে আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস-সংক্রান্ত বিদ্রোহ মোকাবিলায়। জুলাই ২০২৩-এ নির্বাচিত নাগরিক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ বাযুমকে উৎখাত করার পর থেকে নাইজার জেনারেল তিয়ানির নেতৃত্বে রয়েছে।
নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোর সঙ্গে মিলে ‘আলায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ গঠন করেছে। পাশাপাশি দেশটি বিদ্রোহ দমন করতে দেশটি সংগ্রাম করছে। এই বিদ্রোহ তিন দেশে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে এবং লাখ লাখকে বাস্তুচ্যুত করেছে।