সারাদেশের ন্যয় সিলেটেও বাড়ছে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব। আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে রোগীর সংখ্যা। গত ৫ দিনে নতুন করে ৩৯ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২২ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৩ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তারা বর্তমানে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় সহকারী পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৮ জন। এরমধ্যে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০ জন, বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৬ জন ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন আরো ১০ জন। এরমধ্যে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭ জন, বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও মৌলভীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন রয়েছেন। জানা গেছে, হাম ও রোবেলা আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতাল–এর একটি ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
পাশাপাশি শিশু রোগীদের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এর শিশু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ চিকিৎসক প্যানেল গঠন করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের চিকিৎসা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সবধরনের ওষুধ ও সরঞ্জাম বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে চুনারুঘাট, বাহুবল, মাধবপুর এবং ছাতক উপজেলার বাসিন্দাদের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালের এক আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা জানান, হাম মোকাবিলায় হাসপাতাল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সিলেটে হামের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রোগ নির্ণয়ের জন্য ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
নমুনা পাঠানো হচ্ছে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে, যেখানে দেশে হামের পরীক্ষার প্রধান ল্যাব রয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় প্রথম হাম শনাক্ত হয়। এরপর ১০ জানুয়ারি সেখানে সতর্কতা জারি করা হয়।
একইসময়ে রাজধানীর বস্তি এলাকাতেও হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় হাম রোগ আবার বাড়ছে। সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তবে গত কয়েকবছরে জাতীয় পর্যায়ে হাম–রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। সর্বশেষ জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালে, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছিল। আগামী জুন মাসে নতুন করে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এবার ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সিলেটে হামের রোগী শনাক্ত হলেও আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে। মহানগর এলাকায় ৩ জন শিশু শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে সব ছোট শিশুর বয়স ২ মাস এবং বড় শিশুর বয়স ১৪ মাস। এর মধ্যে একটি শিশুর ট্রাভেল হিস্ট্রি রয়েছে ছাতক উপজেলায়।
সবমিলিয়ে নগর এলাকায় স্থানীয়ভাবে হাম রোগে আক্রান্তের কোন তথ্য আমার পাইনি। তিনি বলেন, একটি শিশুকে জন্মের পর থেকে ৯ মাসের মধ্যে হামের দুটি টিকা দেয়া হয়। গত বছরের শেষের দিকে হামের টিকার সংকট থাকায় কেউ কেউ টিকা পায়নি। এছাড়া আমরা ৫ বছর পর পর সকল শিশুদের জন্য হামের টিকার ক্যাম্পেইন করে থাকি। কিন্তু ২০২০ সালের পর সেটি বন্ধ রয়েছে। তাই বর্তমানে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।