প্রথম সকাল ডেস্ক: অনিয়ম আর দুর্ণীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল।
বিগত আওয়ামলীগ সরকারের সময়ে এখানে পদায়নকৃত ডাক্তার, নার্স ও স্টাফ থেকে শুরু করে খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার পর্যন্ত সিন্ডিকেট করে হাসপাতালটির সেবার মানকে তলানিতে নিয়ে গেছেন। এখন এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েছে যে, হাসপাতালের রোগীরা খবার পর্যন্ত পাচ্ছেন না।
জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগীদের খাবার পরিবেশনের টেন্ডার পায় কট্টোর আওয়ামীলীগ সমর্থক জনৈক ব্যক্তির মালিকানাধিন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ভি.পি. এন্টারপ্রাইজ।
টেন্ডার পাওয়ার পর থেকেই রোগীদের যথাযত মানসম্মত খাবার না দেওয়া এবং মাঝে মধ্যেই একেবারে খাবার বন্ধ রাখার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। প্রতিদিন খাবার বিতরণ নিয়ে রোগীদের নানা অভিযোগ থাকে ওই প্রতিষ্ঠানের উপর।
সবশেষে বৃহস্পতিবার রোগীদের সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবার দিতে অপারগতা দেখায় খাদ্য পরিবেশন কোম্পানি ভি.পি এন্টারপ্রাইজ। বার বার খাবারের খোজ নিতে গেলে কর্তৃপক্ষের লোকেরা রোগীর ও রোগীর স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকেন।
রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে বর্তমানে ৬২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিন নানা অজুহাতে খাবার দিতে দেরি হয় ওই কোম্পানির। মাঝেমধ্যে খাবার বিতরণ করাও হয় না।
অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনগুলোতে এই হাসপাতালে খাবার নিয়ে নানা সমস্যা ছিল এবং বর্তমানেও রয়েছে। এমন অনেক সময় দেখা যায় দুপুরের খাবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেয়া হয়েছে।
ইউসুফ নামের এক ভূক্তভোগী জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কাউকে দুপুরের খাবার দেওয়া হয় নি সেই সাথে সকালেও খাবার দেওয়া হয়নি।
পরে রোগীদের স্বজনেরা বার বার অভিযোগ করার পর, সাড়ে ৩টার দিকে খাবার দেওয়া হয়। যে খাবারগুলো তারা পরিবেশন করে তার মান একেবারে নূন্যতম এবং সীমিত উপকরণ দিয়ে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়।
তবে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আরএমও ড. মিজানুর রহমান বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি রোগীদের খাবার নিয়ে ঝামেলা করে কৃতিম সংকট তৈরি করতে চাইছে।
তবে অভিযোগের বিষয় খাবার পরিবেশনকারী কোম্পানি ভি.পি. এন্টারপ্রাইজের কারো কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।