বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় ঊর্ধ্বতনের অনুমতি ছাড়া আসামি গ্রেপ্তার নয়

প্রথম সকাল ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলায় আসামি গ্রেপ্তারের আগে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের উপযুক্ত প্রমাণও পেশ করতে হবে।

ডিএমপির  এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত মামলাগুলোর অধিকাংশেই এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা অনেক বেশি।

এ ধরনের মামলার এজাহারভুক্ত কিংবা তদন্তে শনাক্ত হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রমাণ (যেমন ভুক্তভোগীর বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য, ঘটনাসংশ্লিষ্ট ভিডিও/ অডিও/ স্থিরচিত্র, মোবাইল কললিস্ট বা সিডিআর ইত্যাদি) উপস্থাপন করে অবশ্যই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা সব সময় স্বচ্ছতার পক্ষে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন ছাড় না পান, তা নিশ্চিত করতেই আমরা কাজ করছি।’

পুলিশ আইনে সাধারণত তদন্তকারী কর্মকর্তাই মামলায় আসামি গ্রেপ্তার ও প্রতিবেদন দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলাগুলোর ক্ষেত্রে নির্বিচারে আসামি করার অভিযোগ ওঠার পর থেকে সরকার ও পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে—মামলা হলেই যেন গ্রেপ্তার না করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে এসব মামলার সূত্রপাত।

একেকটি মামলায় কয়েক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের অনেকেরই ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই এমন তথ্য উঠে এসেছে প্রাথমিক অনুসন্ধানে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে দেড় হাজারের বেশি এমন মামলা হয়েছে।

এসব মামলায় শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের একসঙ্গে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি, মামলার আসামি করা এবং গ্রেপ্তার নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।

এ অবস্থায় বারবার নির্দেশনা এসেছে গ্রেপ্তারের আগে নিশ্চিত হতে হবে ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে।
এ ছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক মামলায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলে তাঁদের গ্রেপ্তার করা যাবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম মামলা থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী একাধিকবার জানিয়েছেন, ‘মামলা হলেই গ্রেপ্তার করতে হবে এই নীতি থেকে পুলিশকে সরে এসে বিচার-বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!