মৌলভীবাজারের এক খেলাফত মজলিস নেতাকে সিলেটে জিম্মি করে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় এক চাঁদাবাজকে আটক করছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তি হচ্ছেন- কোতোয়ালি মডেল থানাধীন সোবহানীঘাটস্থ লতিফিয়া আ/এ রোড নং-০৩, বাসা নং-৮২ এর বাসিন্দা মৃত আব্দুস শহীদের পুত্র নাজমুল ইসলাম (৩৫)। পরবর্তীতে তাকে রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অপরাপর আসামিরা হচ্ছেন- ফাতেমা আক্তার রিয়া (২৮), স্বামী- নাজমুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম (২৩), পিতা- মৃত আব্দুস শহীদ ও আব্দুস সালাম (৪৭), পিতা-আছদ্দর আলীসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন। মামলা ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, লোকমান আহমদ প্রবাসে (কাতার) মজলিশ মনোনীত মৌলভীবাজার-০১ (বড়লেখা ও জুড়ি) আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করার কথা থাকলেও জোটগত কারণে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছে।
আটকৃত নজমুল ইসলাম তার সমন্ধিকের মেয়ে ২নং আসামী ফাতেমা আক্তার রিয়ার স্বামী হয়। বিগত প্রায় ২ বৎসর থেকে তার শশুর বাড়ীর লোক জনের সাথে ঝগড়া ও মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে তাদের পরিবারের সদস্যগণ (নারী পুরুষ) এমনকি আত্মীয়-স্বজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।
বিবাদী নাজমুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মুখুশের আড়ালে একটি প্রতারক চক্র পরিচালনা করে। বিবাদী নাজমুল ইসলামসহ অপরাপর বিবাদীগণ প্রবাসী, সম্মানী, বৃত্তশালী মানুষদেরকে টার্গেট করে কৌশলে ফাদে ফেলে চাঁদাদাবী পূর্বক টাকা আদায় করে। এছাড়াও উল্লেখিত বিবাদীগণ বিভিন্ন পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ মোটা অংকের টাকা দাবী ও আদায় করার বিনিময়ে মামলা তোলে নেয়।
এই ধারাবাহিকতায় বিবাদী নজমুল গত মে ২০২৫ইং থেকে তার সাথে যোগাযোগ করে তার নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। যদি তাহার দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দেন তাহালে সে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনদের সামাজিক ভাবে হেও প্রতিপন্ন করাসহ প্রাণে হত্যার হুমকি প্রদান করে। অতঃপর আত্মসম্মানের ভয়ে তাহার চাঁদার দাবীকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে তাহাকে ৫ লাখ টাকা দিয়ে দেন।
কিন্তু এতে বিবাদীরা সন্তোষ্ট না হয়ে আবারো প্রাণে হত্যার হুমুকি দিয়ে তাহার দাবীকৃত ১০ লাখ টাকার মধ্যে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বিবাদীদের হুমকি-ধামকির ভয়ে এবং সামাজিক মান-মর্যাদা রক্ষার্থে গত ১৫/০৭/২০২৫ইং তারিখে তিনি বাংলাদেশে আসেন। বিবাদীদের সাথে সমঝোতা করার জন্য গত ২৪/০৭/২০২৫ইং তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬.০০ ঘটিকার সময় বিবাদীদের সোবহানীঘাটস্থ বাসায় যান তিনি।
তথায় পূর্ব হতে অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন বিবাদীকে দেখে ভয় পেয়ে তিনি চলে আসতে চাইলে সমূহ বিবাদীগণ তাকে অবৈধ আটক পূর্বক মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রাণের ভয়ে তার স্ত্রীকে ফোন দিলে তিনি ঘরে থাকা ৪ লাখ টাকা তাদের বাসায় পাঠালে বিবাদীরা টাকা পেয়ে তাকে যদি উক্ত বিষয়ে কোন মামলা মোকদ্দমা না করার শর্তে মুক্তি দেয়।
মামলা দায়ের ও চাঁদাবাজির ঘটনায় নাজমুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণের সত্যতা নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির।